সমুদ্রে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! মাত্র ৭ দিনে নৌবাহিনীতে ৪ যুদ্ধজাহাজ, কাঁপছে পড়শি দেশগুলো!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ভারত মহাসাগরে লাল ফৌজের দাপট— এই জোড়া চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতের নৌ-শক্তি এখন অনন্য উচ্চতায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলো চারটি শক্তিশালী ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ। আজ বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্টিলথ ফ্রিগেট’ আইএনএস তারাগিরি (এফ৪১)-কে নৌবাহিনীর সেবায় উৎসর্গ করবেন। এর আগে ৩০ ও ৩১ মার্চ গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) আরও তিনটি রণতরী—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস আগ্রায় এবং আইএনএস সংশোধনক নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছে।

আইএনএস তারাগিরি: রাডারের চোখে ধুলো দিতে ওস্তাদ মুম্বইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এ নির্মিত এই যুদ্ধজাহাজটি প্রজেক্ট ১৭এ-এর চতুর্থ স্তম্ভ। ৬৬৭০ টন ওজনের এই দানবীয় জাহাজটি ১৪৯ মিটার দীর্ঘ। এর বিশেষ ‘স্টিলথ’ নকশা রাডারে এর উপস্থিতি বুঝতে দেয় না। এটি ব্রহ্মোস মিসাইল, বারাক-৮ অ্যান্টি-এয়ার মিসাইল এবং অত্যাধুনিক সোনার সিস্টেমে সজ্জিত। আকাশ থেকে সমুদ্রের তলা—যেকোনো দিক থেকে আসা শত্রুকে নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম এই রণতরী।

দুনাগিরি ও আগ্রায়: শত্রুর সাবমেরিনের যম কলকাতার জিআরএসই-তে নির্মিত ‘আইএনএস দুনাগিরি’ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌবহরকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, ‘আইএনএস আগ্রায়’ হলো অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিরোধী লড়াইয়ের স্পেশালিস্ট। ৯০০ টন ওজনের এই জাহাজটি উপকূলীয় এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকা শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করে টর্পেডোর মাধ্যমে উড়িয়ে দিতে দক্ষ।

এক সপ্তাহে চারটি রণতরীর অন্তর্ভুক্তি বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাবের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখতে ভারতের এই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ রণকৌশল গেমচেঞ্জার হতে চলেছে।