আপ-এ কি এবার ভাঙনের সুর? রাঘবকে ‘শিঙাড়া’ খোঁচা সৌরভ ভরদ্বাজের, তুঙ্গে কেজরিওয়াল-ঘনিষ্ঠদের লড়াই!

আম আদমি পার্টির (AAP) অন্দরের কলহ এবার আর চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা আক্ষরিক অর্থেই আছড়ে পড়ল সমাজমাধ্যমে। রাজ্যসভার উপনেতার পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর রাঘব চাড্ডা যখন ‘বঞ্চিত’ হওয়ার আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ তাঁকে পাল্টা বিঁধলেন তীব্র ভাষায়। সরাসরি অভিযোগ তুললেন, দেশের জ্বলন্ত সমস্যা ছেড়ে রাঘব সংসদে স্রেফ ‘শিঙাড়া’ নিয়ে আলোচনা করে সস্তার জনপ্রিয়তা খুঁজছেন।

সম্প্রতি রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে শিল্পপতি অশোক মিত্তলকে রাজ্যসভায় দলের উপনেতা করা হয়েছে। এই রদবদলের পরেই জল্পনা শুরু হয়— তবে কি কেজরিওয়ালের গুডবুক থেকে নাম কাটা গেল রাঘবের? এরপরই রাঘব একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে ‘আম আদমি’র প্রতিনিধি দাবি করে আক্ষেপ করেন যে তাঁর কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে।

‘শিঙাড়া’ খোঁচা ও সৌরভের আক্রমণ: রাঘবের ভিডিওর পাল্টায় সৌরভ ভরদ্বাজ একটি ভিডিও পোস্ট করে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন চাড্ডাকে। সৌরভের সাফ কথা, “রাঘব ভাই, ভীত আর মৃতের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। সংসদ ভবনে যখন ছোট দলগুলি কথা বলার জন্য খুব কম সময় পায়, সেখানে আপনি দেশের জ্বলন্ত সমস্যা এড়িয়ে ‘শিঙাড়া’র মতো বিষয় নিয়ে সফট পিআর করছেন কেন?” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সৈনিকরা সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শেখে, ভয় পেয়ে লুকিয়ে থাকতে নয়।

বিদেশে পালানো এবং নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: সৌরভ ভরদ্বাজ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে রাঘবকে প্রশ্ন করেন, যখন গোটা দেশ দেখছে ইভিএম জালিয়াতি হচ্ছে বা মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, তখন রাঘব নীরব কেন? তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “যখন কেজরিওয়ালজিকে গ্রেপ্তার করা হলো, আমরা রাস্তায় নেমে লড়াই করলাম। আপনি তখন কোথায় ছিলেন? আপনি দেশের বাইরে পালিয়েছিলেন, লুকিয়ে ছিলেন।” গুজরাটে ১৬০ জন কর্মীর গ্রেপ্তার বা পাঞ্জাবের স্বার্থ নিয়েও রাঘবকে কোনো জোরালো সওয়াল করতে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন সৌরভ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বাদানুবাদ আসলে আপ-এর অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একদিকে রাঘবের ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলা, অন্যদিকে দলের সতীর্থদেরই তাঁকে ‘বিজেপি-ভীত’ বলে দেগে দেওয়া— সব মিলিয়ে দিল্লির শাসক দলের অন্দরের ফাটল এখন রাজপথে।