ইতিহাস গড়ল নাসা! ৫৪ বছর পর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদের পথে মানুষ!

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, কারণ ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ (LEO) ছেড়ে মহাশূন্যের গভীরে পাড়ি দিল কোনো মানুষবাহী মহাকাশযান। নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশন সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে এখন চাঁদের অভিমুখে। ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সঙ্গী হয়েছেন চার দুঃসাহসী মহাকাশচারী—রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন।
এই মিশনটি কেবল একটি মহাকাশ যাত্রা নয়, বরং বৈচিত্র্য ও বিজ্ঞানের এক অনন্য মেলবন্ধন। এই প্রথম কোনো চন্দ্রাভিযানে অংশ নিচ্ছেন একজন মহিলা (ক্রিস্টিনা কচ) এবং একজন অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি (ভিক্টর গ্লোভার)। এছাড়াও জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই গৌরবের অংশীদার হলেন। যদিও এই মিশনে ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না, তবে এটি চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে মহাকাশচারীদের জীবনধারণের অনুকূল পরিস্থিতি ও যানের কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে মহাকাশচারীরা চাঁদের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার মাইল গভীরে যাবেন, যা আগেকার অ্যাপোলো ১৩-এর করা দূরত্বকেও ছাড়িয়ে যাবে। এই সফল প্রদক্ষিণ আসলে আগামী বছরের ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনের মহড়া, যেখানে ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষের পা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের যে স্বপ্ন নাসা দেখছে, আর্টেমিস-২ তার প্রথম ও প্রধান সোপান হিসেবে চিহ্নিত হলো।