“গুজরাত থেকে বাসে লোক আসছে!”-বিজেপি-মিম আঁতাঁতের বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

মালদহের কালিয়াচক ও মোথাবাড়ির অশান্তি নিয়ে এবার সরাসরি ‘গুজরাত যোগ’-এর তথ্য সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার হরিরামপুরের হাজারীপাড়া মাঠের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে লোক এনে বাংলায় অশান্তি বাঁধানো হচ্ছে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে করে টাকা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
“বিজেপি-মিম-আইএসএফ সব এক”: মমতা
এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, মালদহ কাণ্ডে ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের বিজেপিই বাংলায় নিয়ে এসেছে। তাঁর কথায়, “বিহারের ভোটেও মিম ভোট কেটে বিজেপিকে জিতিয়েছিল। এখানেও বিজেপি-মিম-আইএসএফ এবং কংগ্রেস একজোট হয়ে সংখ্যালঘুদের ক্ষেপিয়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতারের পিছনে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তথা CID-র বড় সাফল্য রয়েছে। এনআইএ (NIA) আসার আগেই হাতেনাতে তাকে পাকড়াও করেছে রাজ্য।
ভয়েস রেকর্ড ও টাকার লেনদেনের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের তির এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকেও। তিনি দাবি করেন, সিআরপিএফ (CRPF)-এর গাড়িতে করে টাকা আনা হচ্ছে অশান্তি ছড়ানোর জন্য। মমতা বলেন, “এই সংক্রান্ত ভয়েস রেকর্ড আমার কাছে আছে।” তবে সেই রেকর্ডে ঠিক কী আছে, তা তিনি খোলসা করেননি।
তদন্তে নামল NIA: কড়া নজরে আইজি সোনিয়া সিং
মুখ্যমন্ত্রী যখন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, ঠিক তখনই মালদহে পৌঁছে গিয়েছেন এনআইএ-র প্রধান তদন্তকারী আধিকারিক আইজি সোনিয়া সিং। কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশের থেকে মামলার নথি সংগ্রহ করেছেন।
অপারেশন বাগডোগরা: কীভাবে ধরা পড়ল ‘মাস্টারমাইন্ড’?
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রমন জানিয়েছেন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও লোকেশন অ্যানালিসিসের মাধ্যমে মোফাক্কেরুল ইসলামকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
-
গ্রেফতারি: মোফাক্কেরুল ও তাঁর সঙ্গী আকরামুল বাগানি বেঙ্গালুরু পালানোর ছক কষছিলেন। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
-
ডিজিটাল প্রমাণ: ভাইরাল ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজে মোফাক্কেরুলকে উত্তেজিত ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে।
-
মোট মামলা: মালদহের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে সাফাই মোফাক্কেরুলের
গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগে একটি ফেসবুক লাইভে মোফাক্কেরুল দাবি করেন, তিনি কোনও উস্কানি দেননি। ডিলিটেড ভোটার বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সাধারণ মানুষের হয়ে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ ও সিআইডি-র দাবি, তাঁর উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।