‘আইন হাতে তুলে নেবেন না’, মোথাবাড়ি কাণ্ডে সতর্কবার্তা মমতার, পাল্টা ‘উস্কানির’ অভিযোগ সুকান্তের

মালদহের মোথাবাড়িতে বুধবার দিনভর চলা অশান্তি ও উত্তেজনার ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সকালে ঝাঁটা হাতে মহিলাদের বিক্ষোভ দিয়ে শুরু হলেও, সন্ধ্যা নামতেই পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উন্মত্ত জনতা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহাড়ায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন ওই আধিকারিকরা।

এই নজিরবিহীন ঘটনার দায় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দড়িটানাটানি। বৈষ্ণবনগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপের সুরে বলেন, “আজকে বাংলা রাজ্যটাকে বদনাম করে দিল। যদিও আমার হাতে কিছু নেই, আইনশৃঙ্খলা এখন কমিশনের হাতে।” তবে বিজেপি এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যকে দায়ী করেছে। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, “ঠাকুর ঘরে কে, আমি কলা খাইনি—মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থা এখন ঠিক তেমনই। তাঁর পরিকল্পনা ও উস্কানির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

বিজেপির অভিযোগের তির মূলত গত ২৬ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া একটি বার্তার দিকে। ডাবগ্রামের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “এজেন্সি দিয়ে ছাপ্পা করতে এলে মা-বোনেদের বলব রুখে দাঁড়াতে। আপনারা সামনে থাকবেন, আর কী দিয়ে কী করতে হয় আপনারা সব জানেন।” গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই ধরণের মন্তব্যই সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে নিতে প্ররোচিত করেছে।

পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির সভা থেকে স্পষ্ট জানান, কেউ যেন কোনও প্ররোচনায় পা না দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে সিবিআই বা এনআইএ-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁদের গ্রেফতার করতে পারে।” ভোটের মুখে মোথাবাড়ির এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।