ভোটের আগে রণক্ষেত্র রাজ্য! অশান্তি রুখতে শুক্রবার থেকেই জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা, নামছে NIA

ভোটের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার খবর আসতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে যে, এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে শুক্রবার থেকেই গোটা রাজ্যে বেআইনি জমায়েতের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম প্রশাসনকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে। গত মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরের সামনে যে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে, তাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিচ্ছে প্রশাসনিক মহল। সাধারণত নির্বাচন কমিশনের অফিস চত্বরে এই ধরনের তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা যায় না। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিক্ষোভকারীদের হঠাৎ ভিড় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা উত্তেজনার পর কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।

অন্যদিকে, মালদহের কালিয়াচকের একটি গুরুতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (NIA)-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ভোটের মুখে এই ধরণের কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তে নামানোর ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিরল।

কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাজ্যে কোথাও বিনা অনুমতিতে জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভ করা যাবে না। শুক্রবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে। কড়া নজরদারির মাধ্যমে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভোটের ময়দানে বিন্দুমাত্র পেশিশক্তির আস্ফালন বরদাস্ত করা হবে না।