অমিত শাহকে কষা মাংস-ইলিশের নিমন্ত্রণ! ভোট যুদ্ধের মাঝেই ‘ভোজের’ কটাক্ষ তৃণমূলের

বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে যেমন শাসক শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভোটার তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা, তেমনই অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাংলা সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সপ্তম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর বড়সড় স্বস্তি ফিরল তৃণমূল শিবিরে।
কমিশন সূত্রে খবর, গোয়ালপোখরের গোলাম রব্বানি, চণ্ডীতলার স্বাতী খন্দকার থেকে শুরু করে উত্তরপাড়ার শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়—যাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে ছিল, তাঁদের সবার নামই এখন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রায় ৪৯ লক্ষ ৬২ হাজারেরও বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এর ফলে তৃণমূলের প্রার্থীদের লড়াইয়ের পথে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। কমিশন আরও জানিয়েছে, যাঁদের নাম এখনও বাদ রয়েছে, তাঁদের জন্য বেহালায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বঙ্গ সফরে আসা অমিত শাহকে ‘পর্যটক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ‘খাদ্য সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শাহকে স্বাগত জানিয়ে মেনু কার্ড ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাঙালির প্রিয় কষা মাংস, ইলিশ ভাপা, পাবদা ও চিংড়ি মাছের রকমারি পদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর চড়িয়ে বলেন, “বিজেপি শাসিত বিহারে খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধের চেষ্টা হচ্ছে, বাংলায় আমরা এমনটা হতে দেব না।” নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিকে ভোটার তালিকার স্বস্তি আর অন্যদিকে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ—সব মিলিয়ে সরগরম বাংলার রাজনীতি।