টিকিট না পেয়েই মেজাজ হারালেন তৃণমূল বিধায়ক! শুভেন্দুর হাত ধরে পদ্ম শিবিরে নবগ্রামের ‘দাপুটে’ নেতা

লোকসভা নির্বাচনের আবহে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা। সিপিএম এবং তৃণমূল ঘুরে এবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন নবগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে পতাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এর ফলে কানাইবাবুর রাজনৈতিক জীবনের দলবদলের বৃত্তটি সম্পূর্ণ হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

টিকিট না পাওয়াতেই কি বিদ্রোহ? দীর্ঘদিন সিপিএমের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন কানাইচন্দ্র মণ্ডল। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে বাম ঝিমিয়ে পড়লেও নবগ্রাম থেকে সিপিএমের টিকিটে টানা দুবার জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। ঘাসফুল শিবিরে গিয়েও নিজের জয়ের ধারা বজায় রাখেন এবং প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে জয়ী হন। কিন্তু এবার অর্থাৎ ২০২৬-এর নির্বাচনে (বা উপনির্বাচন/লোকসভা প্রেক্ষিত) তৃণমূল তাঁকে আর প্রার্থী করেনি। তাঁর বদলে নবগ্রামে টিকিট দেওয়া হয়েছে প্রণব চন্দ্র দাসকে। নিজের খাসতালুকে ব্রাত্য হয়েই অভিমানে বা ক্ষোভে দল ছাড়লেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

শুভেন্দুর হাত ধরে পদ্ম শিবিরে: বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে কানাই মণ্ডল তৃণমূলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। যদিও নবগ্রাম আসনে বিজেপি ইতিমধ্যেই দিলীপ সাহাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছে, তবে জল্পনা চলছে কানাই মণ্ডলকে কি মুর্শিদাবাদ জেলার অন্য কোনো আসন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে? শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কানাইবাবুর মতো অভিজ্ঞ নেতার আগমনে মুর্শিদাবাদে বিজেপি আরও শক্তিশালী হবে।

নবগ্রামের লড়াই এবার কঠিন: কানাই মণ্ডলের দলবদলে নবগ্রামের লড়াই এখন চতুর্মুখী। একদিকে তৃণমূলের প্রণব দাস, অন্যদিকে বিজেপির দিলীপ সাহা। এর পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন পূর্ণিমা দাস ও হিরু হালদার। তবে তিনবারের বিধায়ক কানাই মণ্ডল নিজে বিজেপিতে যাওয়ায় এলাকার ভোট ব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।