বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাসঙ্কট! বন্ধ হরমুজ প্রণালী খুলতে আসরে ব্রিটেন, ৩৫ দেশের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে ভারত

ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার ত্রিমুখী যুদ্ধের দাবানলে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। আর এই যুদ্ধের সবথেকে বড় কোপ পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-র ওপর। গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু করতে এবার কোমর বেঁধে নামল ব্রিটেন (UK)। বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের মুখ থেকে বাঁচাতে ৩৫টি বন্ধু দেশকে নিয়ে এক বিশেষ জরুরি বৈঠক ডেকেছে ইউনাইটেড কিংডম। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ভারতের ভূমিকা: ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ভারত এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যোগ দেবেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশের উপস্থিতি এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

কেন এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক? গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর। ব্রিটিশ বিদেশ সচিব ইভেট কুপারের নেতৃত্বে এই বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো অংশ নিচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আলোচনা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে আমেরিকা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবারই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সেই দেশগুলির দায়িত্ব যারা এই পথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। তাঁর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই পথ নিজে থেকেই খুলে যাবে, তবে এর জন্য অন্যান্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ব্রিটেনের এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত অর্থবহ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় ছাড়া এই পথ পুনরায় চালু করা কঠিন। ৩৫ দেশের এই জোট কি পারবে ইরানের অবরোধ ভাঙতে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।