ভারত আর শুধু আত্মরক্ষা করে না, ঘরে ঢুকে মারতেও জানে! ২২ মিনিটের সেই ধ্বংসলীলা মনে করিয়ে ইসলামাবাদকে কাঁপিয়ে দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনওরকম দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা করে, তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলন থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ঠিক এই ভাষাতেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান যদি কোনও প্রক্সি যুদ্ধ বা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
স্মরণে ‘অপারেশন সিঁদুর’: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে লস্কর জঙ্গিদের হাতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, তা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। রাজনাথ মনে করিয়ে দেন, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা সীমান্তের ওপারে ৯টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল এবং একাধিক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল। শেষ পর্যন্ত ১০ মে পাকিস্তান নিজে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানালে সেই সংঘাত থেমেছিল।
কেন এই সতর্কতা? বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে এক ত্রিমুখী সংকটে রয়েছে—চরম আর্থিক মন্দা, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির দায়বদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ শিয়া-সুন্নি উত্তেজনা। এই টালমাটাল পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতে ইসলামাবাদ সীমান্তে প্ররোচনা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ জানান, মোদি সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে আপসহীন। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বালাকোটের মতো ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রমাণ করেছে যে ভারত এখন প্রয়োজনে শত্রুর ঘরে ঢুকে আঘাত করতে জানে।