“৭ ঘণ্টা ঘেরাও ৩ মহিলা বিচারক!” মালদা কাণ্ডে কাঁপছে রাজ্য প্রশাসন, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা?

ভোটার তালিকা সংশোধনকে (SIR) কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ মালদা। কালিয়াচকে সাত বিচারককে সাড়ে সাত ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার বিকেলেই জরুরি বৈঠকে বসল নির্বাচন কমিশন (EC)।

তদন্তে সিবিআই-এনআইএ? রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের বুধবার মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনতা রণংদেহী রূপ নেয়। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে তিনজন মহিলা বিচারকসহ মোট সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত সাফ জানায়, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকেই। এমনকি, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।

নড়বড়ে প্রশাসন, জরুরি তলব কমিশনের সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার ঠিক পরেই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্স শুরু করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। এছাড়া সমস্ত জেলার ডিইও (DEO) ও পুলিশ সুপারদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বিচারকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

গ্রেফতার ১৮, তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই ১৮ জনকে জালে তুলেছে পুলিশ। এর মধ্যে অন্যতম হলেন মোথাবাড়ির আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি। যদিও আদালতে পেশ করার সময় তিনি দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ফাঁসানো হচ্ছে।

নেপথ্যে কী? স্থানীয় সূত্রে খবর, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ পড়ার অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা দ্রুত সহিংস রূপ নেয় এবং বিকেল ৪টের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে এলাকা থমথমে থাকলেও পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

মালদার এই ঘটনা এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। লোকসভায় বিজেপি সাংসদ বাঁশরী স্বরাজ থেকে শুরু করে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—সব মহলেই শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা আর বিচারকদের নিরাপত্তা এখন কমিশনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।