“দেশের বীরদের সঙ্গে এ কেমন বিচার?” সিএপিএফ বিল নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা রাহুল গান্ধীর!

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ‘সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) বিল, ২০২৬’-কে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক তরজা। বৃহস্পতিবার এই বিলের তীব্র সমালোচনা করে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। নকশাল দমনে পা হারানো অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অজয় মালিকের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল অভিযোগ করেন, মোদী সরকার দেশের প্রথম সারির রক্ষকদের সঙ্গে “প্রাতিষ্ঠানিক অবিচার” করছে।

অজয় মালিকের আত্মত্যাগ ও বঞ্চনা:
রাহুল গান্ধী লিখেছেন, “অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অজয় মালিক দেশের সুরক্ষায় নিজের একটি পা হারিয়েছেন। আইইডি বিস্ফোরণে পঙ্গু হয়েও তিনি ১৫ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে সেবা করে চলেছেন। অথচ বিনিময়ে তিনি কী পেলেন? কোনো পদোন্নতি নেই, নিজের বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। কারণ শীর্ষ পদগুলো আইপিএস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।” রাহুলের দাবি, এটি কেবল একজন অফিসারের লড়াই নয়, লক্ষ লক্ষ সিএপিএফ জওয়ানের মর্যাদার প্রশ্ন।

বিলের বির্তকিত দিক:
২০২৬ সালের এই নতুন বিল অনুযায়ী, বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ-এর মতো আধাসামরিক বাহিনীগুলোর শীর্ষ পদে আইপিএস অফিসারদের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইজি পদের ৫০ শতাংশ এবং এডিজি পদের অন্তত ৬৭ শতাংশ ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর মতে, জওয়ানরা সীমান্তে লড়ছেন, সন্ত্রাসবাদ ও নকশাল দমনে প্রাণ দিচ্ছেন, অথচ পদোন্নতির সময় তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

কংগ্রেসের বড় প্রতিশ্রুতি:
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বৈষম্যমূলক আইনটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে। সুপ্রিম কোর্টও এই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদের হুঙ্কার, “আমরা জওয়ানদের শুধু কথায় নয়, নীতিতে সম্মান করি। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসামাত্রই এই বৈষম্যমূলক বিলটি বাতিল করা হবে। যারা দেশের জন্য লড়েন, নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার তাঁদেরই প্রাপ্য।”