“জুম্মাবারে’ সতর্ক থাকুন”-শুক্রবার জুম্মার নমাজ নিয়ে বড় আশঙ্কা প্রকাশ মমতার!

শুক্রবার জুম্মার নমাজ। আর এই বিশেষ দিনেই মুর্শিদাবাদে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘি এবং সুতির পরপর দুটি জনসভা থেকে সংখ্যালঘু সমাজকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ দাবি, ‘হায়দরাবাদ থেকে উড়ে আসা’ কিছু লোক এবং বিজেপি মিলে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর ছক কষছে।
“উস্কানিতে পা দিলেই সিবিআই-এনআইএ তুলে নিয়ে যাবে”
সুতির ছাবিঘাটি কে.ডি স্কুলের ময়দান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু দাঙ্গায় যাবেন না। বিচারকদের ঘেরাও করবেন না। কাল জুম্মার দিন বিজেপি, কংগ্রেস আর হায়দরাবাদ থেকে আসা ওই লোকগুলো আপনাদের উসকে দেওয়ার প্ল্যান করেছে। ওই ফাঁদে পা দিলেই এনআইএ বা সিবিআই আপনাদের গ্রেফতার করবে। তখন আপনাদের দু’দিকই যাবে।”
নিশানায় ওয়েইসি-হুমায়ুন জোট
নাম না করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এবং হুমায়ুন কবীরের জোটকে ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ শানান মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, এরা বিহারে ভোট কাটাকাটি করে বিজেপিকে জিতিয়েছে, এখন বাংলায় এসেছে সেই একই লক্ষ্য নিয়ে। ইমামদের উদ্দেশে তাঁর আর্জি, কেউ যাতে উস্কানিমূলক কথা না বলে তা নিশ্চিত করতে হবে।
কেন এই ‘অশান্তি’র ছক? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, মালদা বা মুর্শিদাবাদে রাস্তা অবরোধ বা বিচারক ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা আসলে বিজেপির ‘গেম প্ল্যান’। তাঁর অভিযোগ:
-
বাংলায় আইনশৃঙ্খলা খারাপ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার চক্রান্ত চলছে।
-
নির্বাচন বাতিল করার বাহানা খুঁজছে গেরুয়া শিবির।
-
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ক্ষোভকে হাতিয়ার করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর লড়াইয়ের ফলে ইতিমধ্যেই ২২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় পুনরায় তোলা সম্ভব হয়েছে। বাকিদেরও আইনি পথে আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাগরদিঘি ও সুতির এই সভা থেকে মমতার বার্তা স্পষ্ট— ভোট ভাগ হতে দেওয়া যাবে না এবং কোনোভাবেই প্ররোচনায় পা দিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখে পড়া চলবে না।