খেসারি লালকে একপলক দেখার হুড়োহুড়ি! মুজফফরপুরে রণক্ষেত্র পশুমেলার কনসার্ট, আহত বহু পুলিশ

ভোজপুরি সুপারস্টার খেসারি লাল যাদবের এক ঝলক পাওয়ার নেশা যে এমন ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি বিহারের মুজফফরপুরের বাসিন্দারা। বুধবার সন্ধ্যায় মুজফফরপুরের গারহানে আয়োজিত ‘অর্জুন বাবু পশু মেলা’র এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রিয় তারকার গান শোনার বদলে সাধারণ মানুষকে সাক্ষী থাকতে হলো ব্যাপক ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি এবং পুলিশের লাঠিচার্জের। এই ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়, যখন মঞ্চে ওঠেন ভোজপুরি সেনসেশন খেসারি লাল যাদব। হাজার হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আয়োজকরা। অনুষ্ঠান শুরু হতেই মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য দর্শকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। উন্মত্ত জনতা নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা লোহার ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ধাক্কাধাক্কির চোটে পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বহু মানুষ একে অপরের ওপর পড়ে যান।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন একদল যুবক চেয়ার ভাঙতে শুরু করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ শুরু করে বিভিন্ন থানা থেকে আসা বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা। দু’পক্ষের সংঘর্ষে মেলা প্রাঙ্গণ মুহূর্তের মধ্যে ছন্নছাড়া হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শয়ে শয়ে চেয়ার ভাঙা হয়েছে এবং দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন।
উল্লেখ্য, এই বিশাল মেলার আয়োজন করেছিলেন বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রাম সুরত রায়। বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে খোদ রাম সুরত রায় এবং খেসারি লাল যাদব মঞ্চ থেকে বারবার জনতাকে শান্ত হওয়ার আবেদন জানান। যদিও পরবর্তীতে প্রাক্তন মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, রিলস বানানো এবং ট্রেন্ডিংয়ের চক্করেই যুবসমাজ ব্যারিকেড ভেঙেছিল, তবে বড় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যদিও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভিড় সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা না থাকাই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মূল কারণ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।