“নিজের ঘরে ঢুকেই হারাতে হবে মমতাকে”, ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার অমিত শাহের! তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড় হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিংহাসনচ্যুত করার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নপত্র পেশের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য এই একটি কেন্দ্র থেকেই গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের জোয়ার আনা। তৃণমূল নেত্রীর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে শাহের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিন দুপুরে হাজরা মোড় থেকে এক সুবিশাল রোড-শো শুরু করেন অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারী। জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার সময় শাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষ্কার বলেছি, মমতাকে তাঁর নিজের ঘরে ঢুকেই হারাতে হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরকেও এবার বিজেপি তাঁদের রণকৌশলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “নন্দীগ্রামে মমতা হেরেছেন, এবার গোটা বাংলার পাশাপাশি ভবানীপুরেও পরাজয় তাঁর নিশ্চিত।”

রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বেকারত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলায় যুবসমাজের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কর্মসংস্থানহীনতা ও পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যুবকদের হাতে কাজ নেই, অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ছেন।” শাহের দাবি, বাংলার মানুষ এখন অনুপ্রবেশ ও তোলাবাজি থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ডবল ইঞ্জিন সরকারই এর একমাত্র সমাধান।

উন্নয়নমূলক এজেন্ডার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পুনরায় ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দেন। শাহ বলেন, “আগামী ৫ মে বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য ১৭০টির বেশি আসন জেতা।” ভবানীপুরের ভোটারদের কাছে আবেগী আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, এই একটি আসনের জয় গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

এদিন রোড-শো শেষ হয় সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে, যেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মনোনয়ন পত্র জমা দেন। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্রে বিজেপির এই বিশাল শক্তিপ্রদর্শন কার্যত শাসকদলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। উল্লেখ্য, দলীয় সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে শুভেন্দুর সমর্থনে খুব শীঘ্রই ময়দানে নামতে পারেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।