“আমি কিছুই জানি না, সবটাই প্ল্যান!”-কালিয়াচক নিয়ে বিস্ফোরক মমতা, তবে কি নির্বাচন বাতিলের চক্রান্ত?

মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় যখন তোলপাড় গোটা দেশ, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থেকে পালটা হুঙ্কার ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনা আসলে একটি ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’। একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে ঠেলে দিয়ে একে ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ বলে অভিহিত করলেন তিনি।
“সবটাই গেম প্ল্যান”, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
সাগরদিঘির জনসভা থেকে মমতা দাবি করেন, কালিয়াচকের ঘটনা ঘটিয়ে আসলে বাংলার বদনাম করার চেষ্টা চলছে। তাঁর আশঙ্কা, এই একটি ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যে নির্বাচন বাতিলের চক্রান্ত করছে বিরোধী শিবির। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়:
“কালকের একটা ঘটনা সব কিছু নষ্ট করে দিয়েছে। আমি জানি না কারা এটা করেছে, তবে যারা করেছে তারা ডেফিনেটলি প্ল্যান করে করেছে। আমার খুব মনে হচ্ছে, মানুষ ছাড়া আর কেউ আমার সঙ্গে নেই।”
“আইনশৃঙ্খলা এখন অমিত শাহের হাতে”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন তাঁর কথায় চলে না। তিনি বলেন:
“আমার হাতে এখন প্রশাসন নেই। আইনশৃঙ্খলা সবটাই কেড়ে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে দেওয়া হয়েছে। ওরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় চলে। মুখ্যসচিব থেকে পুলিশ সুপার— সব আপনারা (কমিশন) বদলে দিয়েছেন।”
কমিশনকে বিঁধে মমতার প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা এবং মুখ্যসচিব-ডিজি-কে শোকজ করার প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যাঁরা এলাকা চিনতেন ও জানতেন, সেই দক্ষ অফিসারদের তামিলনাড়ু বা কেরালায় পাঠিয়ে দিয়েছে কমিশন। নবাগত অফিসারদের পক্ষে হুট করে সব সামলানো সম্ভব নয়। তাঁর প্রশ্ন, “যাঁদের আপনারা ঠিক করেছেন, তাঁদের শো-কজ করছেন কেন? তাঁরা নতুন এসে সব জানবেন কী করে?”
.@BJP4India and @ECISVEEP are playing with fire, and yesterday’s unfortunate incident in Malda is the direct result of their dirty conspiracy.
They removed and transferred experienced State Government officials and senior police officers who knew every corner of Bengal like the… pic.twitter.com/XJ4qpYX8fX
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) April 2, 2026
নির্বাচন বাতিলের চক্রান্ত?
মমতা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের পরিস্থিতি খারাপ দেখিয়ে দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই— বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া বা নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করা। ‘একটা ঘটনা নিয়ে সারা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা খারাপ বলা হচ্ছে’— এই বয়ানকে রাজনৈতিক অভিসন্ধি বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেত্রী।
সাগরদিঘির মঞ্চ থেকে মমতার এই ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’-এর অভিযোগ এখন রাজ্য রাজনীতির নয়া চর্চার বিষয়।