হাত কেটে বাদ দেওয়ার উপক্রম! মৃত্যুভয় জয় করে আইপিএলে মোহসিন খানের রূপকথার প্রত্যাবর্তন

ক্রিকেট মাঠে একজন পেসারের কাছে সবথেকে বড় সম্পদ তার বোলিং হাত। কিন্তু সেই হাতই যদি কেটে বাদ দেওয়ার কথা ওঠে? লখনউ সুপার জায়ান্টসের বাঁহাতি পেসার মোহসিন খানের জীবনে ঠিক এমন এক বিভীষিকা নেমে এসেছিল, যা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতা আর ১৪০ কিমি গতির মিশেলে মোহসিন যখন টিম ইন্ডিয়ার নীল জার্সির দোরগোড়ায়, তখনই এক বিরল শারীরিক সমস্যায় থমকে গিয়েছিল তাঁর পৃথিবী।

২০২২ সালের আইপিএলে ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের রাডারে চলে এসেছিলেন মোহসিন। অর্শদীপ সিং বা উমরান মালিকদের সাথে তাঁর নামটিও ছিল আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু আইপিএল শেষে বাড়ি ফিরতেই শুরু হয় যন্ত্রণার কালবেলা। মোহসিন লক্ষ্য করেন, তিনি তাঁর বাঁ হাত তুলতে পারছেন না। বেঙ্গালুরুর এনসিএ থেকে তাঁকে দ্রুত মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই ধরা পড়ে যে তাঁর বাঁ কাঁধের অ্যাক্সিলারি ধমনীতে অ্যানিউরিজম হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, হাতের আঙুল ও কবজিতে রক্ত সঞ্চালন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, সামান্য দেরি হলে পচন ধরতে পারত এবং প্রাণ বাঁচাতে হাতটি কেটে বাদ দিতে হতো।

প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে, অগণিত নির্ঘুম রাত আর অসহ্য যন্ত্রণার রিহ্যাব কাটিয়ে মোহসিন আবার ফিরেছেন চিরচেনা ছন্দে। আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে তিনি চলতি মরসুমের প্রথম মেডেন ওভারটি করেছেন। তাঁর প্রথম ১১টি বল থেকে বিপক্ষ ব্যাটাররা কোনো রানই সংগ্রহ করতে পারেননি। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে লখনউ হারলেও ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে মোহসিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। হার না মানা মানসিকতা আর অদম্য জেদ থাকলে যে মৃত্যুর মুখ থেকেও ফিরে আসা যায়, মোহসিন খান আজ সেই সংগ্রামের জীবন্ত বিজ্ঞাপন।