৫০ বছর পরে ফের ‘চন্দ্রাভিযান’ নাসার, চাঁদের দেশে যাচ্ছেন ৪ মহাকাশচারী

১৯৭২ সালের পর ফের একবার চাঁদের রহস্যভেদে মানুষের পদযাত্রা। অর্ধশতাব্দী পর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের মায়া কাটিয়ে মহাকাশচারীদের নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিল নাসার (NASA) শক্তিশালী রকেট। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ৪ মিনিটে সফল উৎক্ষেপণ হলো আর্তেমিস-২ (Artemis II) মিশনের। এই ঐতিহাসিক যাত্রার হাত ধরেই প্রায় ৫৩ বছর পর চাঁদের কক্ষপথে ফিরছে মানুষ।

** ৩২ তলার রকেটের গর্জন, কাঁপল ফ্লোরিডা!**

নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটটি ছিল একটি ৩২ তলা বিল্ডিংয়ের সমান উঁচু। উৎক্ষেপণের সময় এর থ্রাস্ট এতটাই প্রবল ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে। উৎক্ষেপণের ঠিক ৮ মিনিটের মাথায় মূল রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’ (Orion) তার নির্ধারিত পথে এগিয়ে যেতে শুরু করে। এই রকেটের সফল যাত্রার খবর এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে নিশ্চিত করেছে নাসা।

ইতিহাসের পাতায় চার মহাকাশচারী

এই অভিযানে শামিল হয়েছেন চারজন লড়াকু নভোচর। যাদের হাত ধরে একাধিক সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক রেকর্ড ভাঙল নাসা:

  • ক্রিস্টিনা কোচ: প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের অভিযানে সামিল হলেন তিনি।

  • ভিক্টর গ্লোভার: প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী হিসেবে এই চন্দ্রাভিযানের অংশীদার।

  • জেরেমি হ্যানসেন: প্রথম ক্যানাডিয়ান মহাকাশচারী হিসেবে এই মিশনে যোগ দিলেন।

  • রিড ওয়াইজ়ম্যান: এই ঐতিহাসিক মিশনের কমান্ডার।

লক্ষ্য কী? ১০ দিনের মহাকাশ যজ্ঞ

আর্তেমিস-২ মিশনটি মূলত ১০ দিনের। মহাকাশচারীরা সরাসরি চাঁদে নামবেন না, বরং চাঁদের চারপাশ ঘুরে ৪ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। একে বলা হচ্ছে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি’—অর্থাৎ কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ হলেও মহাকাশযানটি স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর টানে ফিরে আসতে সক্ষম হবে।

মিশনের মূল উদ্দেশ্যগুলি একনজরে:

  • গভীর মহাকাশে মানুষের শরীরের সহনশীলতা পরীক্ষা।

  • মহাকাশযানে অক্সিজেন, জল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (Life Support) চূড়ান্ত যাচাই।

  • যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা দেখা।

নাসার এই সাফল্য আগামী দিনে চাঁদে স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।