ড্রোন হামলার যম! সেনার হাতে আসছে ঘাতক ‘এয়ার ডিফেন্স গান’; কাঁপছে শত্রুদেশ

সীমান্তে শত্রুদেশের ড্রোনের দাপট এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের মোকাবিলা করতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিল ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ড্রোন, ড্রোনের ঝাঁক (Drone Swarm), যুদ্ধবিমান বা ক্রুজ মিসাইলের মতো আকাশপথে আসা যে কোনও বিপদ সামলাতে ভারতীয় সেনার জন্য নতুন প্রজন্মের ‘এয়ার ডিফেন্স গান সিস্টেম’ (ADG-NG) এবং আধুনিক গোলাবারুদ কেনার প্রক্রিয়া সরকারিভাবে শুরু হয়েছে। এর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন’ (RFI) জারি করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযান। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই নতুন এয়ার ডিফেন্স গান সিস্টেম এবং এর গোলাবারুদের অন্তত ৫০ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হতে হবে। বর্তমান সময়ে প্রথাগত যুদ্ধবিমান বা হেলিকপ্টারের চেয়েও বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ইলেকট্রিক ড্রোন। এদের রাডার ক্রস-সেকশন এবং ইনফ্রারেড সিগনেচার অত্যন্ত কম হওয়ায় সাধারণ রাডারে এদের ধরা কঠিন। বিশেষ করে পশ্চিম সীমান্তে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনার এই আধুনিকীকরণ।

এই ADG-NG সিস্টেমটি দিন হোক বা রাত, যে কোনও আবহাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুকে চিহ্নিত করে ‘টার্গেট লক’ করতে সক্ষম। এতে থাকছে ইন্টিগ্রেটেড ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম (EOFCS)। ৪০০০ মিটার বা তার বেশি রেঞ্জের এই বন্দুকটি প্রতি মিনিটে অন্তত ৩০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে পারবে। এটি কেবল ড্রোন নয়, বরং হেলিকপ্টার, ক্রুজ মিসাইল, রকেট এমনকি প্যারাগ্লাইডারের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তুকেও ধ্বংস করতে পারবে। এর গোলাবারুদ হবে অত্যন্ত ‘স্মার্ট’ ও প্রোগ্রামেবল, যা লক্ষ্যবস্তুর কাছে গিয়ে নিজে থেকেই ফেটে যাবে। আগামী ১১ জুনের মধ্যে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। এই সিস্টেম সেনার অন্তর্ভুক্ত হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলির নিরাপত্তা এক অভেদ্য স্তরে পৌঁছে যাবে।