বকেয়া ডিএ নিয়ে নবান্নে মহাবৈঠক! এবার কি ভাগ্য খুলছে সরকারি কর্মীদের?

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বিষয় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবান্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে নবান্নের অন্দরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারী মহলে আশার আলো জাগিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া একাংশের মিটিয়ে দেওয়ার পর, এবার সরকারের নজর পড়েছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ ও ডিআর (Dearness Relief) মেটানোর দিকে।
নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার অর্থ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকের মূল নির্যাস হলো—কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে বকেয়া ডিএ এবং ডিআর-এর টাকা মেটানো যায়। বৈঠকের পর প্রতিটি দফতরকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের অধীনে কতজন কর্মী ও পেনশনভোগী বকেয়া পাওয়ার যোগ্য, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত জমা দিতে হবে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছরের বকেয়া ডিএ-র হিসেব নিকেশ করা হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ের তথ্য একত্রিত করা প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, সরকার এবার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের ধারণা, সামনেই বড় কোনও ঘোষণা আসতে পারে। বকেয়া ডিএ-র অঙ্ক বিশাল হলেও, সরকার ধাপে ধাপে তা মেটানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ছিলেন, সেই পেনশনভোগী এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নবান্নের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করছে যে, আইনি লড়াই এবং কর্মীদের দাবির মুখে সরকার এখন অনেকটাই নমনীয়। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া টাকা কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছয়।