১০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বৃদ্ধি! এক দিনেই চাঙ্গা বাজার, জেনে নিন এই র‍্যালির স্থায়িত্ব নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নতুন অর্থবর্ষের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৭ (আর্থিক বছর), ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য এক ঐতিহাসিক জয়ের দিন হয়ে রইল। গত কয়েকদিনের রক্তস্নান আর অস্থিরতা কাটিয়ে বুধবার এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখল দালাল স্ট্রিট। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতির খবর এবং বিশ্ববাজারের ইতিবাচক সংকেতে বিনিয়োগকারীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র: বুধবার লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ১,১৮৭ পয়েন্ট (১.৬৫%) এবং এনএসই নিফটি ৩৪৮ পয়েন্ট (১.৫৬%) বেড়ে বন্ধ হয়েছে। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন এক দিনেই প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্লু-চিপ শেয়ারের পাশাপাশি মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ স্টকগুলো ৩ শতাংশের বেশি লাভ করে মূল সূচককেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

উত্থানের নেপথ্যে ৩টি প্রধান কারণ:

  • ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতির ইঙ্গিত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা যে আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শেষ হতে পারে, তা বাজারে অক্সিজেনের কাজ করেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলারে নেমে এসেছে।

  • ভিক্স (India VIX)-এ পতন: বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ ১০ শতাংশ কমে ২৫-এ নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মনে স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।

  • ভ্যালু বাইং: মার্চ মাসের পতনের ফলে অনেক শক্তিশালী শেয়ার সস্তায় পাওয়া যাচ্ছিল। লগ্নিকারীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড়সড় কেনাকাটা (Value Buying) শুরু করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: বাজারের এই তেজিভাব আকর্ষণীয় হলেও বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এখনই সম্পূর্ণ ‘বুল মার্কেট’ ঘোষণা করতে নারাজ। তাঁদের মতে: ১. স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন: এই র‍্যালি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রকৃত শান্তি প্রক্রিয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতির ওপর। ২. অশোধিত তেলের ভূমিকা: তেলের দাম যদি ফের বাড়তে শুরু করে, তবে বাজারের এই রমরমা থমকে যেতে পারে। ৩. বিনিয়োগকারীদের করণীয়: বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হুজুগে না মেতে ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং বা শক্তিশালী আর্থিক ভিত সম্পন্ন শেয়ারেই বিনিয়োগ ধরে রাখতে।

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলেও, বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখে পা ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।