অ্যামোনিয়া ও সিলিকন তেলের আকাল! ভারতে মহার্ঘ হতে পারে কন্ডোম, নেপথ্যে কি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার আছড়ে পড়ল ড্রয়িং রুম থেকে বেডরুমে। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের অস্থিরতা তো ছিলই, এবার তার পরোক্ষ প্রভাবে ভারতে কন্ডোম ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্য পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়েছে।

কেন বাড়ছে দাম? শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডোম উৎপাদনের প্রধান দুটি স্তম্ভ হলো অ্যামোনিয়া এবং সিলিকন তেল। প্রাকৃতিক ল্যাটেক্সকে প্রক্রিয়াকরণের সময় স্থিতিশীল রাখতে অ্যামোনিয়ার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, ব্যবহারের সুবিধা ও গুণমান বজায় রাখতে লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন তেল। যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহের পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় এই কাঁচামালগুলোর আকাল দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সিলিকন তেলের দামও ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে।

প্যাকেজিংয়েও বিপত্তি: শুধু তৈরির উপাদান নয়, কন্ডোমের মোড়ক বা প্যাকেজিংয়ের খরচও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। পিভিসি (PVC) এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো কাঁচামাল আমদানিতে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি।

ভোক্তাদের ওপর কোপ: ভারতে প্রতি বছর কোটি কোটি ইউনিট কন্ডোম উৎপাদিত হয়। কিন্তু কাঁচামালের অভাব এবং যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি খরচের এই বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপরেই চাপানো হতে পারে। ফলে খুচরো বাজারে কন্ডোমের প্যাকেট কিনতে আগের চেয়ে অনেকটা বেশি টাকা গুণতে হতে পারে আমজনতাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি এই ধরণের জরুরি পণ্যের দাম বাড়লে তা জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।