ট্রু কলারে নতুন ফিচার, পুরো পরিবারকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাবে এই নতুন ফিচার

ডিজিটাল দুনিয়ায় ফোন কল মারফত জালিয়াতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কখনও লটারি জেতার টোপ, আবার কখনও প্রিয়জনের বিপদের মিথ্যে নাটক সাজিয়ে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা একধাপ বাড়িয়ে দিতে ট্রু-কলার (Truecaller) নিয়ে এল দুর্দান্ত এক ফিচার— ‘ফ্যামিলি প্রোটেকশন’ (Family Protection)

এক ছাতার তলায় পুরো পরিবার

নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্যকে একই সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে আনা সম্ভব। পরিবারের যিনি প্রযুক্তিগতভাবে বেশি দক্ষ, তিনি একটি গ্রুপ তৈরি করে বাকি সদস্যদের সেখানে যুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে পরিবারের বয়স্ক সদস্য বা শিশু—যারা সহজে প্রতারকদের ফাঁদে পা দিতে পারেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

কীভাবে কাজ করবে এই সুরক্ষা কবচ?

এই ফিচারের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Shared Block List)

  • যৌথ ব্লকিং: পরিবারের কোনো একজন সদস্য যদি কোনো নম্বরকে ‘প্রতারক’ বা ‘স্প্যাম’ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্লক করেন, তবে সেই নম্বরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রুপের সবার ফোনেই ব্লক হয়ে যাবে।

  • রিমোট কন্ট্রোল: কোনো সদস্য ভুল করে সন্দেহজনক কল ধরলে, গ্রুপের অন্য সদস্যরা দূর থেকেই সেই কলটি কেটে দেওয়ার সুবিধা পাবেন।

নিরাপদ থাকবে ব্যক্তিগত তথ্যও

অনেকেই মনে করতে পারেন এতে হয়তো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হবে। কিন্তু ট্রু-কলার স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রুপের সদস্যরা একে অপরের ব্যক্তিগত কললিস্ট, মেসেজ বা কন্টাক্ট ডিটেইলস দেখতে পাবেন না। অর্থাৎ, প্রাইভেসি বজায় রেখেই মিলবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

বিনামূল্যে মিলবে বিশেষ সুবিধা

সবচেয়ে খুশির খবর হলো, ট্রু-কলারের ফ্রি বা সাধারণ সংস্করণেও এই ফিচারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। সন্দেহজনক কল আসার আগেই ফোনে ফুটে উঠবে লাল সতর্কবার্তা, যা ব্যবহারকারীকে তৎক্ষণাৎ সচেতন করে দেবে।

সতর্কতাই আসল চাবিকাঠি

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রু-কলারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। অচেনা নম্বর থেকে ওটিপি (OTP) বা ব্যাঙ্ক ডিটেইলস চাইলে তা শেয়ার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। প্রযুক্তির ঢাল আর নিজের বুদ্ধিমত্তা—এই দুয়ের মেলবন্ধনেই ঠেকানো সম্ভব ডিজিটাল লুটতরাজ।