“৬০০ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার মামলা”-গ্রেফতার হলেন শিল্পপতি পবন রুইয়া

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সাইবার অপরাধের এক বিশাল সাম্রাজ্য। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মেগা সাইবার জালিয়াতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হলেন নিউটাউনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পবন রুইয়া। অভিযোগ, কেবল ব্যবসা নয়, পর্দার আড়ালে চলত দেশজুড়ে বিস্তৃত এক বিশাল প্রতারণা চক্র।
তদন্তের শুরু ও তল্লাশি
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার অনলাইন জালিয়াতির তদন্তে নেমে পুলিশ পবন রুইয়ার বাড়ি, অফিস এবং তাঁর আত্মীয়দের ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতারণার কালো টাকা সাদা করতে এবং লেনদেনের পথ ঘোরাতে রুইয়া ১৪৮টি ভুয়া বা ‘শেল’ কোম্পানি তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘ টালবাহানা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তাঁকে পাকড়াও করল পুলিশ। আগামীকাল তাঁকে বিধাননগরের এসিজেএম (ACJM) আদালতে পেশ করা হবে।
যেভাবে চলত প্রতারণার জাল
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটির শিকড় অনেক গভীরে। ইকো পার্ক থানার বাসিন্দা স্বপন কুমার মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি একটি মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করার পরেই সর্বস্বান্ত হন। ধাপে ধাপে তাঁর প্রায় ৯৪.৫৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না রেখে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হতো। সব মিলিয়ে এই একটি ঘটনায় প্রতারণার অঙ্ক ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক ও ১,৯০০ ভুক্তভোগী
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পবন রুইয়ার এই সিন্ডিকেট সারা দেশে প্রায় ১,৩৭৯টি সাইবার অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এখনও পর্যন্ত ১৯০০-র বেশি মানুষ রুইয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গ্রেফতারি এড়াতে পবন রুইয়া কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিপুল পরিমাণ প্রমাণ এবং ভুক্তভোগীদের বয়ানের ভিত্তিতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।