কোচবিহারে রণক্ষেত্র! বিজেপি প্রার্থীর কনভয়ে হামলা, ভাঙচুর; কাঠগড়ায় তৃণমূল

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই তপ্ত কোচবিহার। মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোসের কনভয়ে হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল কেশরীবাড়ি এলাকায়। অভিযোগের তির তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। এই হামলায় কনভয়ের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অজিত দাস নামে এক বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়ে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
কী ঘটেছিল মঙ্গলবার? বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস জানান, এদিন সকালে দলীয় বৈঠক সেরে ফেরার পথে একদল ‘উন্মত্ত’ লোক বাঁশ ও তৃণমূলের পতাকা নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রার্থীর গাড়ি কোনওরকমে বেরিয়ে গেলেও পিছনের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। রথীন্দ্রনাথবাবুর অভিযোগ, “তৃণমূলের গুন্ডারা আমাদের কর্মীদের ওপর পাশবিক আক্রমণ চালিয়েছে। পুলিশকে আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশ ছিল না।” উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গায় ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ও কালো পতাকার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই বিজেপি প্রার্থীকে।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতা আব্দুল জলিল আহমেদ জানিয়েছেন, এটি কোনও রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’। তাঁর দাবি, এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যেখানেই বিজেপি প্রার্থীরা যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষ তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এতে তৃণমূলের কোনও ভূমিকা নেই।
উত্তপ্ত কোচবিহারের রাজনীতি: প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই রথীন্দ্রনাথ বোসকে ঘিরে বিক্ষোভের দানা বাঁধছে। কখনও শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে ঘেরাও, আবার কখনও ঘুঘুমারিতে কালো পতাকা প্রদর্শন—কোচবিহার দক্ষিণে প্রচার চালানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির কাছে। এই ঘটনার পর বিজেপি নির্বাচন কমিশনে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ভোটের আগে কেশরীবাড়ির এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।