বিয়ে থেকে মুক্তি পেতেই ৯ কিমি দণ্ডি! ডিভোর্স হতেই মন্দিরে ছুটলেন যুবক, নেটপাড়ায় শোরগোল

সাধারণত মানুষ মন্দিরে মানত করেন ঘর বাঁধতে, প্রিয়জনকে সারাজীবনের সঙ্গী হিসেবে পেতে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের এক যুবক যা করলেন, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটনাগরিকদের। এ যেন এক চরম ‘উলটপুরাণ’! সংসার বাঁচাতে নয়, বরং বিষাক্ত দাম্পত্য থেকে আজীবনের মুক্তি পেতেই কঠিন মানত করেছিলেন তিনি। আর সেই মনস্কামনা পূর্ণ হতেই টানা ৯ কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কেটে মন্দিরে পৌঁছালেন ওই যুবক।

অশান্তির পাহাড় ও মুক্তির পথ: ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের সোনহা থানা এলাকার। জানা গিয়েছে, যোগেশ নামে ওই যুবক দু’বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের কিছু সময় যেতে না যেতেই শুরু হয় চরম অশান্তি। স্বামী-স্ত্রীর মতবিরোধ ক্রমে চরমে পৌঁছায়, যা যোগেশকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তোলে। এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি ভানপুরের বাড়ওয়া মাতা মন্দিরে মানত করেছিলেন— যদি স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ সফল হয়, তবে তিনি গ্রাম থেকে মন্দির পর্যন্ত দণ্ডি কেটে যাবেন।

৯ কিলোমিটারের কঠিন যাত্রা: সম্প্রতি যোগেশের বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া আইনিভাবে সম্পন্ন হয়। এরপরই নিজের মানত পূরণ করতে কোমর বাঁধেন তিনি। ভোরবেলা অন্নজল ত্যাগ করে শুরু হয় তাঁর দণ্ডবৎ যাত্রা। দীর্ঘ ৯ কিলোমিটার রাস্তা প্রখর রোদে দণ্ডি কেটে পার করেন তিনি। এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন স্বয়ং তাঁর বাবা-মা এবং গ্রামবাসীরা। যোগেশের মনোবল বাড়াতে সারা রাস্তা তাঁরা জয়ধ্বনি দিতে দিতে যান।

শারীরিক কষ্ট বনাম মানসিক শান্তি: টানা কয়েক ঘণ্টার ধকলে যোগেশ যখন সন্ধে ৬টা নাগাদ মন্দিরে পৌঁছান, তখন তাঁর শরীর অবসন্ন। চোখে-মুখে চরম ক্লান্তির ছাপ থাকলেও, তাঁর অভিব্যক্তিতে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, “সম্পর্ক কতটা বিষাক্ত হলে মানুষ এমন মানত করে!” আবার কারোর মতে, “মানসিক শান্তিই আসল, তা যেভাবেই আসুক।” যেখানে মানুষ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে লড়াই করে, সেখানে বিচ্ছেদের আনন্দে এমন উদযাপন সত্যিই নজিরবিহীন।