“বাংলায় অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে!”-মোদী-শাহকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার, কেন এই বিস্ফোরক দাবি?

নির্বাচন চলাকালীন বাংলায় ‘অলিখিত’ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেওয়া হয়েছে! মঙ্গলবার চন্দ্রকোনার নির্বাচনী জনসভা থেকে এই গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক পথে ভোটে জিততে পারবে না বুঝেই পিছনের দরজা দিয়ে বাংলার সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
“মোদী-শাহের মতো স্বৈরাচারী দেখিনি”
এদিন ভাষণের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “মোদী-শাহের মতো এত বাজে স্বৈরাচারী নেতা আমি জীবনে দেখিনি। এরা মানুষকে মানুষ মনে করে না। এরা যে কী সাংঘাতিক তা কল্পনা করতে পারবেন না।” মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখন নিজেদের নিযুক্ত লোক দিয়ে কী করছে, তার কোনও খবর সরকারের কাছে নেই।
ভোটার তালিকায় ‘বিহার-রাজস্থান’ যোগ?
বিজেপির বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ এনে মমতা দাবি করেন, বাংলার ভূমিপুত্রদের নাম বাদ দিয়ে ভিনরাজ্যের লোকেদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।
-
বিস্ফোরক তথ্য: মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে নাম এনে বাংলার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।
-
৩০ হাজার নাম: সোমবারই নির্বাচন কমিশনে প্রায় ৩০ হাজার এমন নাম জমা পড়েছে বলে দাবি তাঁর, যারা বাংলার কেউ নয়।
-
ট্রেনে করে ভোটার: বিজেপি বাইরে থেকে ট্রেনে করে লোক এনে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা করছে বলে দলের কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
বাংলার মণীষীদের অপমান ও ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে’ লড়াই
বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগকে ঢাল করে মমতা বলেন, বিজেপি বাংলাকে চেনে না। তারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, রামমোহন-বঙ্কিমচন্দ্রকে অসম্মান করে। বাংলা ভাষাকে যারা মারতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি ঘোষণা করেন— “ওরা যা করবে, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে যুদ্ধ করব।”
অভিষেকের সিসিটিভি চ্যালেঞ্জ
মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই সুর মিলিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ফর্ম-৬ ভর্তি বস্তা নিয়ে বিজেপির লোকজন কমিশনে ঢুকেছিল বহিরাগতদের নাম ঢোকাতে। সিইও মনোজ আগরওয়ালকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন, “সাহস থাকলে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করুন।”
বাংলার ভোটে ‘বহিরাগত’ ভোটার ইস্যু যে আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে চলেছে, মমতার চন্দ্রকোনার সভা তারই ইঙ্গিত দিল।