মধ্যবিত্তের মুখে হাসি! নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই সুখবর দিল কেন্দ্র; পিপিএফ থেকে সুকন্যা সমৃদ্ধি—সুদের হারে বড় সিদ্ধান্ত

নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর শুরুতেই সাধারণ বিনিয়োগকারী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভা নির্বাচনের আবহে দাঁড়িয়ে এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকের জন্য পোস্ট অফিস ও অন্যান্য স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের (Small Savings Schemes) সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। এই নিয়ে টানা অষ্টম ত্রৈমাসিকেও সুদের হারে কোনও কাটছাঁট না করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখল কেন্দ্র।

কোন প্রকল্পে কত সুদ?
কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘোষণার ফলে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF), ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC), সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতো জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোতে আগের মতোই রিটার্ন পাওয়া যাবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পিপিএফ প্রকল্পে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে টানা পাঁচ বছর ধরে সুদের হার ৭.১ শতাংশেই স্থির রয়েছে। অন্যদিকে, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সবথেকে আকর্ষণীয় ‘সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম’-এ মিলছে সর্বোচ্চ ৮.২ শতাংশ সুদ। কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’-তেও সুদের হার বজায় থাকছে ৮.২ শতাংশে। এনএসসি (NSC) প্রকল্পের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা পাবেন ৭.৭ শতাংশ সুদ।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ:
২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের একটি বিশাল অংশ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষরা এই স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর ওপর নির্ভরশীল। সুদের হার না কমিয়ে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি বড় ভোটব্যাঙ্ককে আশ্বস্ত করার কৌশল নিয়েছে মোদী সরকার। যদিও অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার কমলে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ে এবং শেয়ার বাজার চাঙা হয়, তবে মুদ্রাস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের পকেটে টান না ফেলাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা:
যাঁরা নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজ করেন, তাঁদের কাছে পোস্ট অফিসের এই প্রকল্পগুলি এখনও শ্রেষ্ঠ বিকল্প। মাসিক আয় প্রকল্প (MIS) থেকে শুরু করে কিষাণ বিকাশ পত্র—সবক্ষেত্রেই পুরনো হার বজায় থাকায় লগ্নিকারীদের আস্থায় চিড় ধরেনি। অর্থ মন্ত্রকের এই পদক্ষেপের ফলে নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই লক্ষ লক্ষ লগ্নিকারী নিশ্চিত মনে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে পারবেন।