রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কি আদতে ‘খুন’? নোনা জল আর বালিতে ফুসফুস দ্বিগুণ; বিস্ফোরক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট!

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক এবং অস্বাভাবিক মৃত্যু এখন আর কেবল শোকের সংবাদে সীমাবদ্ধ নেই; তা এক বিশাল আইনি ও প্রশাসনিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে। তালসারিতে শ্যুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন (AICWA)। সংগঠনের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তার অভাবজনিত ‘খুন’।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর পর রাহুলের ফুসফুস ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। ফুসফুসের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বালি এবং নোনা জল পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল, তাঁরা হাঁটু জলে নেমে শ্যুটিং করছিলেন এবং হঠাৎ গর্তে পড়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের এই অবস্থা এবং ভেতরে বালি ঢোকা নির্দেশ করে যে, অভিনেতা দীর্ঘ সময় জলের তলায় হাবুডুবু খেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করতে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়েছিল।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও বড় দাবি:
এই ঘটনায় শ্যুটিং ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই তালসারিতে শ্যুটিং চলছিল। অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA) সরাসরি এই ঘটনার জন্য ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-র প্রযোজনা সংস্থাকে দায়ী করেছে। তাঁদের দাবি:

সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থাকে অবিলম্বে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করতে হবে।

প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করতে হবে।

মৃত অভিনেতার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আর্জি:
সংগঠনের তরফে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। শ্যুটিং স্পটে অ্যাম্বুলেন্স বা লাইফ গার্ডের মতো ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা কেন ছিল না, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সহকর্মীরা। একদিকে যখন রাহুলের অকালপ্রয়াণে টলিপাড়া স্তব্ধ, অন্যদিকে এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট সিরিয়ালের ভবিষ্যৎও এখন গভীর অন্ধকারের মুখে।