“কাজ না দেখালে ২০২৭-এ টিকিট নেই!”-বিধানসভা ভোটের মুখে কাউন্সিলরদের আল্টিমেটাম ব্রাত্য বসুর

বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে কাউন্সিলরদের পারফরম্যান্সের ওপরই ঝুলে রইল তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তৃণমূলের অন্দরে এবার সাফ বার্তা— পদের চেয়ে দলের পরিচয় বড়। মেয়র হোক বা সাধারণ কাউন্সিলর, প্রচারে ফাঁকি দিলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে ঘাসফুল শিবির। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেকের কাজের ওপর নজর রাখছেন বলে খবর।
ব্রাত্য বসুর ‘রিপোর্ট কার্ড’ হুঁশিয়ারি
বরানগর ও দক্ষিণ দমদমের কর্মিসভা থেকে কর্মীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কোন বুথে কী ফল হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই তৈরি হবে কাউন্সিলরদের ‘রিপোর্ট কার্ড’।
ব্রাত্য বসুর কথায়, “২০২৭ সালের পুরভোটের টিকিট দেওয়ার আগে এই রিপোর্ট কার্ড দেখা হবে। প্রতিটি বুথের রেজাল্ট দেখে আমি নিজে দলনেত্রীকে চিঠি লিখব। সেখানে স্পষ্ট জানানো হবে, আগামীতে কাদের ওপর ভরসা রাখা যায় আর কাদের ওপর নয়।”
শহরাঞ্চলের ফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় নবান্ন?
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েকটি নির্বাচনে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী পুর এলাকাগুলোতে তৃণমূলের ফল প্রত্যাশামতো হয়নি। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বিজেপির উত্থান রুখতে এবার কাউন্সিলরদের জনসংযোগে জোর দিতে বলছে দল।
-
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত নয়: প্রার্থী নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ সরিয়ে রেখে সবাইকে একজোট হয়ে প্রচার নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
সক্রিয়তা বাধ্যতামূলক: কে কতক্ষণ প্রচার করছেন, কতগুলো বাড়ি যাচ্ছেন— সবকিছুর হিসেব রাখা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে লিডের ওপর
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী কতটা লিড পাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই কাউন্সিলরদের কাজের মূল্যায়ন হবে। যারা ভালো ফল এনে দিতে পারবেন, ভবিষ্যতে দলে তাঁদের গুরুত্ব বাড়বে। আর যারা প্রচার এড়াবেন বা অন্তর্ঘাত করবেন, তাঁদের জন্য দলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শহরের মানুষের আস্থা ফিরে পাওয়াই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যপূরণে কাউন্সিলরদের ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিল দলীয় নেতৃত্ব।