১৫ বছর বয়সেই রাজস্থানে বিধ্বংসী ‘সূর্যোদয়’! ধোনহীন চেন্নাইকে উড়িয়ে ইতিহাস বৈভব সূর্যবংশীর

আইপিএলের মঞ্চে ফের একবার দাপট দেখাল ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ তুর্কিরা। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছরের কিশোর ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে যেন বসন্ত নেমে এল গুয়াহাটির মাঠে। মহেন্দ্র সিং ধোনি বিহীন চেন্নাই সুপার কিংসকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ১২৭ রানে মুড়িয়ে দেয় রাজস্থান। আর রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২.১ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। সৌজন্যে বৈভবের ১৭ বলে ৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস।
পাওয়ারপ্লে-তে খুনে মেজাজ:
বৈভব এদিন মাত্র ১৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন, যা রাজস্থান রয়্যালসের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার এবং ৫টি বিশাল ছক্কা। ম্যাচ শেষে বৈভব জানান, তাঁদের পরিকল্পনা ছিল পাওয়ারপ্লে-তেই ম্যাচ শেষ করে দেওয়া। যেহেতু প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে রাখা গিয়েছিল, তাই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে চাপ তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য। শুরুর দিকে উইকেট কিছুটা মন্থর থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং সহজ হয়ে যায় বলে জানান এই বাঁ-হাতি কিশোর।
যশস্বীর সেই বিশেষ পরামর্শ:
ক্রিজে ওপেনিং পার্টনার যশস্বী জয়সোয়ালের সঙ্গে কী কথা হচ্ছিল বৈভবের? কৌতূহলী সমর্থকদের সেই উত্তরও দিয়েছেন তিনি। বৈভব বলেন, “যশস্বী ভাই আমাকে বারবার সিঙ্গল নেওয়ার কথা বলছিল না। ও বলছিল, যদি বল ব্যাটে ঠিকঠাক আসে, তবে সোজা মারো। অযথা রক্ষণাত্মক হওয়ার দরকার নেই।” মূলত অভিজ্ঞ যশস্বীর এই ভরসাতেই নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে পেরেছেন বৈভব।
কোচদের সমর্থন ও প্রস্তুতি:
নিজের সাফল্যের জন্য রাজস্থান রয়্যালসের কোচিং স্টাফদের কৃতিত্ব দিয়েছেন বৈভব। তিনি জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগে থেকেই তাঁরা গুয়াহাটিতে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। কোচরা তাঁকে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলার এবং ম্যাচ রিড করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। গত ২৭ মার্চ ছিল বৈভবের জন্মদিন। সেই সেলিব্রেশনের কথা মনে করে হেসে বৈভব বলেন, “সবাই মুখে কেক মাখিয়ে দিচ্ছিল, তাই সেদিন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।” এই কিশোর প্রতিভার উত্থান দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন নিরাপদ হাতেই রয়েছে।