মোবাইল নম্বরের মতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও হবে পোর্টেবল! RBI-এর মাস্টারপ্ল্যানে গ্রাহকদের পৌষ মাস

সারা দেশের কোটি কোটি ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য এক ঐতিহাসিক সংস্কারের পথে হাঁটছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। এবার মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (MNP) মতোই আসতে চলেছে ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি’। অর্থাৎ, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি অপরিবর্তিত রেখেই আপনি আপনার বর্তমান ব্যাঙ্ক থেকে অন্য যে কোনও ব্যাঙ্কে চলে যেতে পারবেন। আরবিআই-এর প্রস্তাবিত ‘পেমেন্টস ভিশন ২০২৮’-এর অধীনে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন এবং কী এর সুবিধা?
বর্তমানে এক ব্যাঙ্ক থেকে অন্য ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে বিমার প্রিমিয়াম, মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি (SIP) বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ভর্তুকি—সব জায়গায় নতুন অ্যাকাউন্ট নম্বর আপডেট করার ঝামেলায় অনেক গ্রাহকই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিম্নমানের পরিষেবা সহ্য করে একই ব্যাঙ্কে পড়ে থাকেন। নতুন ব্যবস্থায় আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বরটি একটি ‘ইউনিভার্সাল ফিন্যান্সিয়াল আইডি’ হিসেবে কাজ করবে। ফলে পরিষেবায় সন্তুষ্ট না হলে বা অন্য ব্যাঙ্ক থেকে ভালো সুযোগ-সুবিধা পেলে গ্রাহকরা সহজেই সুইচ করতে পারবেন।

PaaS সিস্টেম ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা:
আরবিআই এই প্রক্রিয়ার জন্য ‘পেমেন্টস সুইচিং সার্ভিস’ (PaaS) নামক একটি কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো তৈরি করছে। এই সিস্টেমের বিশেষত্ব হলো, আপনার সমস্ত অটো-ডেবিট এবং পেমেন্ট ম্যান্ডেট এখানে সংরক্ষিত থাকবে। ব্যাঙ্ক বদলানোর সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ইএমআই (EMI), এসআইপি এবং ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাঙ্কে স্থানান্তরিত হবে। আপনাকে আলাদা করে অফিস বা সংস্থায় গিয়ে তথ্য জমা দিতে হবে না। এমনকি এলপিজি ভর্তুকি বা পিএম-কিষাণের মতো ডিবিটি (DBT) সুবিধাও কোনও বাধা ছাড়াই চলতে থাকবে।

ঋণ এবং ক্রেডিট হিস্ট্রি:
অনেক গ্রাহকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ব্যাঙ্ক বদলালে কি লোন বা ক্রেডিট স্কোরে প্রভাব পড়বে? উত্তর হলো—না। আপনার ঋণ এবং যাবতীয় বকেয়া দায়বদ্ধতা নতুন ব্যাঙ্কে স্থানান্তরিত হবে এবং আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রি আগের মতোই বজায় থাকবে। তবে যেহেতু আইএফএসসি (IFSC) কোড নির্দিষ্ট শাখা ও ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত, তাই সেটি পরিবর্তিত হতে পারে।

উপসংহার:
আরবিআই-এর এই পদক্ষেপের ফলে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে প্রতিযোগিতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। গ্রাহক ধরে রাখতে ব্যাঙ্কগুলি এখন আরও উন্নত ডিজিটাল পরিষেবা এবং আকর্ষণীয় সুদের হার দিতে বাধ্য হবে। এক কথায়, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে চলে আসতে চলেছে।