শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য নয় বউমা?-হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আর আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে এক যুগান্তকারী রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো পুত্রবধূ তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণের (Maintenance) দায়িত্ব নিতে আইনিভাবে বাধ্য নন। বিচারপতি মদন পাল সিংহের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি (বর্তমানে BNSS) অনুযায়ী ভরণপোষণ দাবি করার তালিকায় শ্বশুর-শাশুড়ির নাম অন্তর্ভুক্ত নেই।

আগ্রার সেই আলোচিত মামলা: ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের আগ্রার। এক প্রবীণ দম্পতি তাঁদের পুত্রবধূর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল:

  • তাঁরা বৃদ্ধ, নিরক্ষর এবং আর্থিকভাবে অসহায়।

  • তাঁদের পুত্রবধূ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।

  • ছেলের মৃত্যুর পর পুত্রবধূই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, তাই নৈতিকভাবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “ভরণপোষণের অধিকার একটি সম্পূর্ণ আইনি বা স্ট্যাটিউটরি অধিকার।” আইনের ধারায় যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কেবল তারাই এই সুবিধা পেতে পারেন। আদালত আরও যোগ করে:

“নৈতিক দায়বদ্ধতা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আইনগত অনুমোদন ছাড়া তাকে আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপান্তর করা সম্ভব নয়।”

সহানুভূতি বনাম প্রমাণ: দম্পতি দাবি করেছিলেন যে পুত্রবধূ সহানুভূতির ভিত্তিতে (Compassionate Ground) চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু আদালত নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানায়, এমন কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া মৃত পুত্রের সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয় এই ধরনের মামলার আওতায় পড়ে না, তার জন্য আলাদা আইনি পথ রয়েছে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় পরিষ্কার করে দিল যে, আবেগ বা নৈতিকতার খাতিরে আদালত নতুন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে না, যদি না সংবিধানে বা আইনে তার সংস্থান থাকে।