মুদ্রাবাজারে মহাপ্রলয়! প্রথমবার ৯৫.৫৮-এর ঐতিহাসিক পতন, মাথায় হাত আমজনতার

সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ডে বড়সড় ধাক্কা। সোমবার বাজার বন্ধের আগে নজিরবিহীন ধসের সাক্ষী থাকল ভারতীয় মুদ্রা। দিনের শুরুতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, বিকেল গড়াতেই ডলারের তুলনায় রুপির দাম (Indian Rupee) পৌঁছে গেল ৯৫.৫৮-এর ঐতিহাসিক তলানিতে। ভারতের ইতিহাসে মুদ্রার দাম এর আগে কখনও এতটা নিচে নামেনি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এক গভীর সংকটের পূর্বাভাস।

সোমবার সকালে ডলারের নিরিখে রুপির দাম ১ টাকা ২৮ পয়সা বেড়েছিল। শেয়ার বাজারে ধস নামলেও মুদ্রার এই উত্থানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। দুপুর ৩টা ২০ মিনিট নাগাদ দেখা যায়, রুপির দাম ০.৪১ শতাংশ কমে ৯৫.১৫-তে দাঁড়িয়েছে। দিনের শেষে সেই পতন আরও ত্বরান্বিত হয়ে ৯৫.৫৮-তে গিয়ে ঠেকে। অর্থাৎ, দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রুপির দর পড়ে গিয়েছে প্রায় ২ টাকা ৩৩ পয়সা। গত এক বছরে ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মূল্য প্রায় ১২ টাকা কমে যাওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

মুদ্রার এই রেকর্ড পতনের নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অগ্নিমূল্য। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫.৫ ডলারে পৌঁছেছে। তেল আমদানির জন্য ভারতকে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করতে হচ্ছে, যার ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা তুঙ্গে এবং রুপির দাম তলানিতে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দালাল স্ট্রিটেও; এদিন সেনসেক্স ১৭৩৩ পয়েন্ট এবং নিফটি ৫২৮ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ধুলোয় মিশে গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে আমদানি করা পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।