ভেঙে চুরমার সব রেকর্ড! ৯৫ ছুঁইছুঁই ডলার, ভারতীয় মুদ্রার ঐতিহাসিক পতনে কাঁপছে বাজার

সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম রেকর্ড পতন ঘটে দাঁড়িয়েছে ৯৫.২২ টাকা। ভারতীয় অর্থনীতির ইতিহাসে টাকার দাম এর আগে কখনও এত নিচে নামেনি। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিন সকালে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কিছু পদক্ষেপের কারণে বাজার কিছুটা ইতিবাচকভাবে খুললেও, সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের চাহিদা তুঙ্গে ওঠে এবং টাকার দাম হু হু করে নামতে থাকে। গত শুক্রবার যেখানে এক ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৯৪.৮৫ টাকা, সোমবার তা সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেয়। অন্যদিকে, যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৫.৫০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। ভারত যেহেতু তার তেলের বড় অংশ আমদানি করে, তাই চড়া দামে তেল কিনতে গিয়ে রাজকোষের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার দরের ওপর।

টাকার এই পতনের সরাসরি আঁচ পড়েছে শেয়ার বাজারেও। সোমবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ১৭৩৩ পয়েন্ট এবং নিফটি ৫২৮ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ায় লগ্নিকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা সাফ হয়ে গিয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলো ভারতীয় বাজার থেকে দেদার শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, টাকার দাম এভাবে পড়তে থাকলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাবে। মধ্যবিত্তের হেঁশেল থেকে যাতায়াত— সবক্ষেত্রেই এখন অগ্নিমূল্যের ভ্রুকুটি।