চিরবিদায় রাহুল অরুণোদয়, শেষযাত্রায় জনজোয়ার, তদারকিতে শাসকদলও

রবিবারের সেই অভিশপ্ত রাত যেন থমকে দিয়েছে তিলোত্তমাকে। টলিপাড়ার প্রিয় মুখ, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া বিনোদন জগত থেকে শুরু করে রাজনীতির আঙিনায়। সোমবার বিকেলে যখন তাঁর নিথর দেহ বিজয়গড়ের বাড়ি থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানের দিকে রওনা দিল, তখন রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার গুণমুগ্ধ।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্য: সোমবার দুপুরে রাহুলের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসতেই দানা বাঁধছে রহস্য। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিনেতার শরীরে অতিরিক্ত বালি ও নোনা জল ঢুকে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। অনেকেই দাবি করেছেন এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের।

শেষযাত্রায় আবেগঘন প্রিয়াঙ্কা ও সহজ: বিকেল ৫টা নাগাদ কেওড়াতলায় যখন শববাহী শকট পৌঁছায়, তখন সেখানে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রিয় ‘বাবিন’-কে শেষবার দেখতে হাজির হয়েছিল গোটা টলিপাড়া। পরিবারের অনুরোধে শেষকৃত্য অনাড়ম্বরে হলেও, আবেগের জোয়ার আটকানো যায়নি। ছেলে সহজকে সঙ্গে নিয়ে শ্মশানে উপস্থিত হন প্রিয়াঙ্কা সরকার। কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় রাহুলের সহ-অভিনেত্রী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের।

লাল ঝাণ্ডা ও খেলার মাঠের আবেগ: আজীবন বামপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন রাহুল। তাঁর শেষযাত্রাতেও ছিল সেই লাল রঙের ছোঁয়া। বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, শতরূপ ঘোষ, দীপ্সিতা ধরদের মতো বাম নেতৃত্ব উপস্থিত থেকে ‘লাল সেলাম’ জানিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। গাওয়া হয় ‘জাগো জাগো সর্বহারা’ গানটি। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসও।

রাজনীতি ছাড়াও রাহুলের প্রাণ ছিল ফুটবল। প্রিয় দল ইস্টবেঙ্গল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর ভালোবাসা ছিল আর্জেন্টিনার প্রতি। প্রিয় অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মরদেহের ওপর রাখা হয় এই দুই দলের পতাকা।

অভিনয়, রাজনীতি আর খেলা— এই তিনের মিশেলে থাকা এক বর্ণময় চরিত্রের অকাল প্রয়াণে আজ স্তব্ধ বাংলা।