স্ত্রী বাপের বাড়ি যেতেই প্রেমিকাকে ঘরে ডাক! নৌসেনা কর্তার ফ্রিজে মিলল প্রেমিকার দেহাংশ, বিশাখাপত্তনমে শ্রদ্ধা-কাণ্ডের ছায়া

দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর হত্যাকাণ্ডের ছায়া এবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। স্ত্রী বাপের বাড়ি যাওয়ার সুযোগে প্রেমিকাকে নিজের কোয়ার্টারে ডেকেছিলেন এক নৌসেনা আধিকারিক। কিন্তু সেই অভিসারই বদলে গেল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে। বচসা থেকে হাতাহাতি, আর তার পরেই প্রেমিকাকে কুপিয়ে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ উঠল নৌসেনা কর্মীর বিরুদ্ধে।
ডেটিং অ্যাপ থেকে আলাপ:
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম চিন্তাদা রবীন্দ্র (৩৫), যিনি বিশাখাপত্তনমের ‘আইএনএস ডেগা’-তে (INS Dega) কর্মরত। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ২৯ বছর বয়সী পোলিপল্লি মৌনিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় পরকীয়া প্রেম। মাঝেমধ্যেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতেন তাঁরা।
খুন ও দেহ লোপাটের ছক:
অভিযুক্তের স্ত্রী বিজয়নগরমে বাপের বাড়িতে থাকায় গত রবিবার দুপুরে মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন রবীন্দ্র। অভিযোগ, সন্ধ্যা নাগাদ তাঁদের মধ্যে প্রবল অশান্তি শুরু হয়। রাগের মাথায় মৌনিকাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন রবীন্দ্র। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য প্রেমিকার দেহ টুকরো টুকরো করে কাটেন তিনি। দেহের কিছু অংশ ব্যাগে ভরে নির্জন জায়গায় ফেলে দিয়ে এলেও, বাকি অংশ নিজের বাড়ির ফ্রিজেই লুকিয়ে রাখেন।
ব্ল্যাকমেল না কি টাকা নিয়ে বিবাদ?
ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই নৌসেনা কর্মী। রবীন্দ্রর দাবি, মৌনিকা তাঁর কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রর স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মাঝেমধ্যেই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতেন যুবতী। এই বিবাদ থেকেই রাগের মাথায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
কাটা মুণ্ডুর হদিস নেই:
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। ফ্রিজের ভিতর এবং ঘরের ইতিউতি পড়ে ছিল যুবতীর দেহের খণ্ড খণ্ড অংশ। তবে এখনও পর্যন্ত মৌনিকার কাটা মুণ্ডুর হদিস মেলেনি। পুলিশের অনুমান, সেটি প্রমাণ মেটাতে অন্য কোথাও ফেলে দিয়ে এসেছেন রবীন্দ্র। নিখোঁজ দেহাংশের খোঁজে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।