শুটিংয়ে ছিল না সমুদ্রে নামার কথা! তবে কেন অত গভীরে গেলেন রাহুল? প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে শিউরে উঠবেন আপনিও

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু নিয়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছিল তিনি স্নান করতে নেমেছিলেন, কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে— আসলে স্নান নয়, বরং একটি ‘ড্রোন শট’ নিতে গিয়েই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
গোড়ালি জলেই হওয়ার কথা ছিল শুটিং!
তদন্ত যত এগোচ্ছে, দিঘার সেই অভিশপ্ত দুপুরের ভয়াবহতা তত স্পষ্ট হচ্ছে। সিরিয়ালের এগজিকিউটিভ প্রডিউসার শান্তনু নন্দী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মূল শুটিং ততক্ষণে শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্রবীণ শিল্পীরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনাও দিয়েছিলেন। বাকি ছিল কেবল ওপর থেকে নেওয়া একটি ‘ড্রোন শট’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাহুল এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রীর থাকার কথা ছিল বড়জোর গোড়ালি সমান জলে।
বারণ সত্ত্বেও এগিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল?
শান্তনুবাবু ইউনিটের সদস্যদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানান, ড্রোন শট চলাকালীন রাহুল এক পা দু’পা করে জলের দিকে এগোচ্ছিলেন। ইউনিটের পক্ষ থেকে তাঁকে বারংবার সতর্ক করা হয়েছিল— “আর এগোবেন না!” কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ধেয়ে আসে এক বিশাল ঢেউ। সামাল দিতে না পেরে দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে গভীর জলে পড়ে যান।
প্রতক্ষ্যদর্শীর বর্ণনা: “সাথের অভিনেত্রী শ্বেতাকে দ্রুত গামছা ফেলে জল থেকে টেনে তোলেন ইউনিটের কর্মীরা। কিন্তু রাহুল আরেকটু গভীরে এগিয়ে গিয়েছিলেন। দড়ি এবং সেফটি বোট নিয়ে কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়লেও শেষরক্ষা হয়নি।”
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
গোড়ালি জলে শুটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও কেন লাইফ জ্যাকেট বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এক সেকেন্ডের ব্যবধানে যে একটা তরতাজা জীবন এভাবে শেষ হয়ে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি শ্যুটিং স্পটে থাকা কেউ।
রাহুলের মৃত্যু এখন আর কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং শুটিং স্পটে নিরাপত্তার অভাব এবং প্রকৃতির খেয়ালের এক করুণ উপাখ্যান হয়ে দাঁড়িয়েছে।