ছেলের পডকাস্টের ভবিষ্যৎ কী? শোকের মাঝেই ভাইরাল ‘সহজ কথা’, অভিনেতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পরিবার ও বন্ধুরা

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে যখন শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই তাঁর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রবিবার বিকেলে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন দিঘার তালসারি সৈকতে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ এখন অনেকটাই স্পষ্ট।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য
তমলুক জেলা হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুলের মৃত্যু হয়েছে জলে ডুবেই। তবে রিপোর্টে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা রীতিমতো আতঙ্ক জাগানিয়া। চিকিৎসকদের মতে:
অভিনেতা কম করে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জলের নীচে ছিলেন।
অত্যাধিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল প্রবেশের ফলে তাঁর ফুসফুস ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।
শুধুমাত্র ফুসফুস নয়, তাঁর খাদ্যনালীর ভেতরেও প্রচুর পরিমাণে বালি ও কাদা পাওয়া গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনও ‘ফাউল প্লে’ বা আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। তবে ভিসেরা রিপোর্টের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে শরীরের ভেতর অ্যালকোহল বা অন্য কোনও বিষক্রিয়া ছিল কি না।
পরিবারের সম্মতি ও শেষ কৃত্য
জানা গেছে, কলকাতা থেকে রাহুলের স্ত্রী ভিডিও কলের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের আইনি সম্মতি দিয়েছেন। হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতার ৬ বন্ধু, মামা এবং তাঁর দীর্ঘদিনের গাড়ির চালক বাবলু। সমস্ত অফিশিয়াল কাজ শেষ করে সোমবারই মরদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে।
স্মৃতির পাতায় ‘সহজ কথা’ ও রাহুলের পডকাস্ট
রাহুলের মৃত্যুর পর এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁর জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-র ক্লিপিংস। নিজের ছেলের নামেই এই পডকাস্ট শুরু করেছিলেন তিনি। সেখানে বাবা ও ছেলের সেই পরিণত আলোচনা, সহজের বুদ্ধিদীপ্ত কথা এখন অনুরাগীদের চোখে জল আনছে। দর্শক মহলে প্রশ্ন উঠছে, রাহুলহীন ‘সহজ কথা’ কি আর কখনও ফিরবে?
শুটিং ফ্লোর থেকে হাসপাতালের মর্গ—মাত্র ৪৩ বছরে এক প্রতিভাবান অভিনেতার এই বিয়োগান্তক পরিণতি টলিউডের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রইল।