১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে নোকিয়া, বিপাকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র?

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের কালো মেঘ যেন কাটতেই চাইছে না। অ্যামাজন, গুগল এবং মেটার পর এবার সেই তালিকায় নাম লেখালো ফিনল্যান্ডের টেলিকম জায়ান্ট নোকিয়া (Nokia)। খরচ কমাতে এবং ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠন করতে সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ভারতের ওপর প্রভাব কতখানি?

বর্তমানে নোকিয়ার বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই গবেষণা ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে কাজ করেন প্রায় ১৭ হাজার কর্মী। স্বভাবতই নোকিয়ার এই মেগা ছাঁটাইয়ের প্রভাব ভারতের কর্মীদের ওপর পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ভারত থেকে ঠিক কতজনকে বিদায় নিতে হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি।

কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?

নোকিয়ার এই বিশাল কর্মী সংকোচনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ:

  • বিভাগীয় একীকরণ: ২০২৩ সালে নোকিয়া তাদের ক্লাউড ও নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস ইউনিটকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভাগের সাথে যুক্ত করে। এর ফলে অনেক বিভাগে একই ধরনের কাজের জন্য অতিরিক্ত কর্মীর সৃষ্টি হয়েছে।

  • খরচ কমানো: মন্দার বাজারে ব্যবসায়িক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করে তুলতেই এই ছাঁটাই।

  • প্রতিযোগিতা: নোকিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এরিকসনও (Ericsson) গত বছর ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নোকিয়াও একই পথে হাঁটছে।

ক্রমহ্রাসমান কর্মীসংখ্যা

নোকিয়ার কর্মী কমানোর প্রক্রিয়াটি কিন্তু নতুন নয়। ২০১৮ সালে যেখানে ১ লক্ষ ৩ হাজার কর্মী ছিল, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজারে। নতুন এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শেষ হলে সেই সংখ্যা ৬০ হাজারে নেমে আসবে। ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও গ্রিসেও প্রায় ১৪০০ কর্মীর চাকরি যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

২০২৬-এর এই টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নোকিয়ার এই সিদ্ধান্ত টেক-দুনিয়ায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করল।