‘এক মাসে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠাব!’ বিশৃঙ্খলা দেখে নওদার সভা থেকে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

নির্বাচনী আবহে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের নওদা। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী সাহিনা মমতাজ এবং স্থানীয় সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে সফিউজ্জামান হাবিবের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ছড়াল ব্যাপক উত্তেজনা। চলল মারধর, ভাঙা হলো চেয়ার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে আসরে নামতে হয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, নওদা তৃণমূল বর্তমানে দুই প্রভাবশালী শিবিরে বিভক্ত। একদিকে প্রার্থী সাহিনা মমতাজ, অন্যদিকে ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান হাবিব। রবিবার দুপুরে অভিষেকের সভার আগে বসা নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সাহিনা গোষ্ঠীর এক সমর্থক অভিযোগ করেন, “আমরা শান্তভাবে বসেছিলাম, হঠাৎ আমাদের মারধর করে চেয়ার ছুড়ে সরানো হয়েছে।” মুহূর্তের মধ্যে সভার সামনের সারিতে শুরু হয় হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি।
মঞ্চে উঠে এই বিশৃঙ্খলা দেখে রীতিমতো অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “দলের জার্সি গায়ে দিয়ে যারা অন্য দলের হয়ে খেলছেন, তাঁদের এক মাসের মধ্যে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেওয়া হবে। মনে রাখবেন, একবার মাঠের বাইরে গেলে বাকি জীবনে আর ফেরার সুযোগ পাবেন না।”
উল্লেখ্য, টিকিট বণ্টন নিয়ে নওদায় অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। সফিউজ্জামানের অনুগামীরা আগেই তাঁর নামে দেওয়াল লিখন শুরু করেছিলেন, কিন্তু দল সাহিনাকেই প্রার্থী করে। সেই ক্ষোভই রবিবার অভিষেকের সামনে আছড়ে পড়ে। যদিও পরে সফিউজ্জামান হাবিব বলেন, “আবেগের বশে কিছু মানুষ এমনটা করেছেন, আমরা দলের প্রার্থীর সাথেই আছি।” অন্যদিকে, সাহিনা মমতাজ এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।