ভোটের পর দূরবীন দিয়েও খুঁজলে পাবেন না! বিজেপি প্রার্থীদের ‘দাড়ি কামানো’ নিয়ে চরম কটাক্ষ অভিষেকের

লোকসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগে বারবার সংবাদ শিরোনামে আসা এই জনপদে রবিবার এক হাইভোল্টেজ সভা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরবেড়িয়া হাইস্কুল মাঠের জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে একগুচ্ছ নতুন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অভিষেক এদিন শুরুতেই বিজেপির বিরুদ্ধে বড়সড় চক্রান্তের অভিযোগ তোলেন। জনৈক স্থানীয় বিজেপি নেতার ভাইরাল হওয়া স্টিং অপারেশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিজেপিই মহিলাদের সাদা কাগজে জোর করে সই করিয়ে মিথ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিল। গত কয়েক মাস ধরে এই ভিত্তিহীন কাহিনী সাজিয়ে গোটা বাংলার মা-বোনেদের সম্মানকে সারা ভারতের কাছে ছোট করা হয়েছে।” উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, যারা সন্দেশখালির সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, সেই ‘গদ্দার’ ও ‘বহিরাগত জমিদার’দের কি ক্ষমা করা যায়?

উন্নয়ন প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, তৃণমূল সরকার ইতিপূর্বেই রায়মঙ্গল ও বিদ্যাধরী নদীতে ৩ কিলোমিটার কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করেছে। গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ‘কালীনগর-ন্যাজাট সেতু’ নিয়ে ঘোষণা। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সরদার যদি ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতেন, তবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই বহুকাঙ্ক্ষিত ব্রিজের কাজ শুরু হবে। জমি দখল নিয়ে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “দোষী যে দলেরই হোক, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি পরিবার জমি ফেরত পেয়েছে, বাকিদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”

বিজেপি প্রার্থী সনৎ সরদারকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, সনৎবাবু বসিরহাটের বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “আবাস যোজনায় ১০ পয়সা বা ১০০ দিনের কাজে ১ টাকা কেন্দ্র দিয়েছে প্রমাণ করতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” সভার শেষে কৌতুকভরা মেজাজে তিনি বিজেপি প্রার্থীদের কটাক্ষ করে বলেন, “ওরা এখন ভোট চাইতে গিয়ে কারও চুল কাটছে, কারও দাড়ি কামাচ্ছে। মা-বোনেরা ওদের দিয়ে ঘর পরিষ্কার করিয়ে নিন, কারণ ভোটের পর ওদের আর দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।”