পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে তেলের আকাল! মোদীর ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে স্বস্তি ফিরল কলম্বো ও ঢাকায়

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মাঝে আবারও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো ভারত। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত, তখন প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মোদী সরকার। শনিবার (২৮শে মার্চ, ২০২৬) কলম্বো বন্দরে পৌঁছেছে ভারতের পাঠানো ৩৮,০০০ মেট্রিক টন জ্বালানির একটি বিশাল চালান, যার মধ্যে ২০,০০০ টন ডিজেল এবং ১৮,০০০ টন পেট্রল রয়েছে।
ফোনালাপ ও দ্রুত পদক্ষেপ: গত ২৪শে মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টেলিফোনে কথা হয়। সেখানে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সহায়তার আবেদন জানানো হলে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) মাধ্যমে এই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে শ্রীলঙ্কার পরিবহন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের পাশেও ভারত: শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে সম্প্রতি ১৫,০০০ টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (BPC) কর্মকর্তাদের মতে, এপ্রিল মাসে ভারত আরও ৪০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ঢাকা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই জ্বালানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাচ্ছে। ভারতের এই ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করল।