ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক মমতার! বকেয়া ডিএ নিয়ে সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে পেমেন্ট, খুশির হাওয়া সরকারি মহলে

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার থেকেই অনেক কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা জিপিএফ-এ টাকা ঢুকতে শুরু করবে। গত ১৩ই মার্চ অর্থ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৩১শে মার্চের ডেডলাইনের মধ্যেই প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ টাকা মিটিয়ে দিতে তৎপর প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তি (Memo No. 996-F) অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি এই মার্চ মাসেই মিলছে এবং দ্বিতীয় কিস্তিটি দেওয়া হবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। তবে পদমর্যাদা অনুযায়ী টাকা পাওয়ার পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। গ্রুপ এ, বি এবং সি স্তরের কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা আগামী ২৪ মাসের আগে তোলা যাবে না। অন্যদিকে, গ্রুপ ডি কর্মী এবং পেনশনভোগীরা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা পাবেন। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকছেন।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে ছুটির দিনেও অর্থ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলি কাজ করছে। ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) জন্য বিশেষ এসওপি (SOP) জারি করা হয়েছে যাতে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (HRMS) মাধ্যমে দ্রুত বিল তৈরি করা যায়। রাজনৈতিক মহলে একে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করা হলেও, প্রায় ১২ লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী পরিবারের জন্য এই ঘোষণা এক বড় স্বস্তি। আন্দোলনেরত কর্মীরা একে তাঁদের ‘ধৈর্যের জয়’ হিসেবে দেখছেন।