মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিকের সেটে তাণ্ডব! টেকনিশিয়ানকে মারধর, উত্তাল টলিউড

টলিপাড়ায় ফের অশান্তির কালো মেঘ। এবার নিশানায় প্রয়াত অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনধর্মী ছবি। শুটিংয়ের প্রথম দিনেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল সেট। এক টেকনিশিয়ানকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত স্টুডিও পাড়া। অভিযোগের তির ‘লাইট কেয়ারটেকার’ এবং প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের একাংশের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিচার না পেলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রযোজক রানা সরকার।
শনিবার ইম্পা (IMPA) কার্যালয়ে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। সেখানে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে রানা সরকার বলেন, “এটা সুপরিকল্পিত হামলা। ইউনিটের ছেলেকে মারধর করে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। এমনকি পুলিশ এসে শুটিং বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সামনে নির্বাচন, এই সময়ে এমন অশান্তি অনভিপ্রেত।” রানার দাবি, বাবাই এবং হাসানের মতো কিছু ব্যক্তি প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি চালাচ্ছেন। প্রযোজক ও ভেন্ডরদের থেকে ‘কাটমানি’ নেওয়া এবং কমিশন রাজ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের হস্তক্ষেপ চেয়ে রানা স্পষ্ট জানান, লাইট কেয়ারটেকার গিল্ড ফেডারেশন অনুমোদিত নয়, তাই তাদের কোনো দাদাগিরি মানা হবে না। যদি ফেডারেশন নিজেদের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে প্রযোজকরা ভবিষ্যতে প্রোডাকশন ম্যানেজার ছাড়াই এগজিকিউটিভ প্রোডিউসার (EP) দিয়ে কাজ সারবেন। পিয়া সেনগুপ্তও সুর চড়িয়ে বলেন, “গত ১০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। প্রযোজকরা অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে ছবি বানান। স্বরূপ বিশ্বাস দায়িত্বশীল মানুষ, আশা করি তিনি ব্যবস্থা নেবেন। নয়তো আমরাও হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হব।” বর্তমানে টলিউডের এই ‘গিল্ড-যুদ্ধ’ ও দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম ইন্ডাস্ট্রি।