কেন আচমকা লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম? বিশেষজ্ঞের দেওয়া এই ‘সিক্রেট রেশিও’ বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য!

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আর যুদ্ধের আবহে ফের স্বমহিমায় ফিরছে সোনা ও রুপো। গত এক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের রেশ কাটেনি, উল্টে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ফের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন সোনাকেই। শনিবারের বাজার দর বলছে, এক গ্রাম ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১৪,৫৭৮ টাকায়। ২২ ক্যারেট গয়না সোনা কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ১৩,৮৫০ টাকা (প্রতি গ্রাম)। পিছিয়ে নেই রুপোও, প্রতি কেজির দাম পৌঁছে গিয়েছে ২,৩১,৯০২ টাকায়।

গত শুক্রবারের তুলনায় শনিবার সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হিসেব বলছে, গত এক সপ্তাহেই সোনার দাম প্রায় ৫.৩৬ শতাংশ বা প্রায় ৭,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কেন এই আকস্মিক উত্থান-পতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ। প্রথমত, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় বিশ্ববাজারে ডলারের দাপট বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোলার প্যানেল বা ইলেকট্রনিক্স শিল্পে রুপোর চাহিদা কমায় এর দাম অস্থির হয়ে পড়েছিল। আর তৃতীয়ত, স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বড়সড় কারেকশন দেখা গিয়েছিল।

এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষ কোন ধাতুতে বিনিয়োগ করবেন? মার্কেট রিসার্চ সংস্থা ‘INDMoney’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর একটি বিশেষ অনুপাত (Gold-Silver Ratio) বিনিয়োগের দিশা দেখাতে পারে। বর্তমানে এই অনুপাত ৬০-এর ঘরে রয়েছে। নিয়ম হলো, এই অনুপাত যখন ৮০-এর উপরে থাকে, তখন রুপো সস্তা হয় এবং তাতে বিনিয়োগ লাভজনক। আবার ৫০-এর নীচে নামলে সোনা সস্তা হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী তিন মাসে এই অনুপাত ৭০-৭৫-এর ঘরে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে সোনার দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী লাভের জন্য রূপোর শিল্প-চাহিদার দিকে নজর রেখে পা বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।