“রাগ থাকলে আমায় চড় মারুন, কিন্তু ভোটটা দিন!” সৌমিত্র খাঁর বিস্ফোরক আবেদনে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

রাজ্যে নির্বাচনী পারদ চড়তেই আক্রমণ আর অনুনয়ের মিশেলে নতুন কৌশল নিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে তিনি কার্যত আবেগপ্রবণ আবেদন পেশ করেন ভোটারদের কাছে। তাঁর সাফ কথা, “জনগণ যদি ক্ষুব্ধ থাকেন, তবে আমাকে চড় মারুন, কিন্তু রাজ্যের ভবিষ্যতের স্বার্থে বিজেপিকে একবার সুযোগ দিন।”
এদিন ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার সমর্থনে একটি বিশাল বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। র্যালিটি ভাতারের এরুয়ার অঞ্চলের নবাব নগর এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গ্রাম পরিক্রমা করে কুড়মুনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে ভাতার বাজারের কদমতলা মোড়ে একটি চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘চা-চক্রে’ যোগ দেন সৌমিত্র খাঁ। সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী সৌমেন কার্ফা এবং স্থানীয় মণ্ডলের বিজেপি নেতৃত্ব।
চায়ের দোকানে আড্ডার মেজাজে সৌমিত্র বলেন, “বাংলার মানুষ ৩৪ বছর বামফ্রন্টকে সুযোগ দিয়েছে, ১০ বছর তৃণমূলকে দেখেছে। কিন্তু রাজ্যের প্রত্যাশিত উন্নয়ন আজও অধরা। বেকারত্ব ঘোচাতে বা মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ। এবার অন্তত একটা সুযোগ বিজেপিকে দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য। ইভিএম-এর একটি বোতাম টিপে বিগত দীর্ঘ শাসনের জবাব দেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান।
বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা জানান, ভাতারের থমকে যাওয়া উন্নয়নকে পুনরায় গতিশীল করতেই তাঁরা মানুষের আশীর্বাদ চাইছেন। তবে এই বর্ণাঢ্য প্রচারকে ঘিরে বিতর্কও দানা বেঁধেছে। দেখা গিয়েছে, বাইক মিছিলে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ বিজেপি কর্মীর মাথাতেই হেলমেট ছিল না, যা নিয়ে স্থানীয় স্তরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবুও সব বিতর্ক ছাপিয়ে সৌমিত্র খাঁর ‘চড় মারার’ মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে হট টপিক।