রানিগঞ্জে মমতার মেগা ধামাকা! ১০ লক্ষ টাকা ও ২টো করে ফ্ল্যাট, জানুন পুনর্বাসন প্যাকেজের খুঁটিনাটি

লোকসভা নির্বাচনের আবহে রানিগঞ্জের ধসপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রানিগঞ্জের নির্বাচনী জনসভা থেকে এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একগুচ্ছ বড়সড় ঘোষণা করলেন তিনি। দীর্ঘদিনের ধস সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের তরফে এক বিশাল পুনর্বাসন প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী।
কী থাকছে এই মেগা প্যাকেজে? মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রানিগঞ্জের যারা বিপজ্জনক ও ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন, তারা যদি সেই স্থান ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান, তবে রাজ্য সরকার তাদের সবরকম সাহায্য করবে। এই প্যাকেজের মূল আকর্ষণগুলি হলো:
-
আর্থিক সহায়তা: প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।
-
আবাসন: পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২টি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে।
-
স্থানান্তরের খরচ: বাড়ি বদল বা মালপত্র সরানোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য ২০০০টি ফ্ল্যাট তৈরি করে ফেলেছে। আগামী দিনে আরও ৪০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে জোর করে উচ্ছেদ করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি কাউকে বাধ্য করছি না, শুধু আবেদন করছি—আপনাদের জীবন আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। যদি বড় কোনও বিপর্যয় ঘটে, তবে হাজার হাজার প্রাণ বিপন্ন হতে পারে। তাই নতুন করে ভাবুন।”
ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপিকে তোপ: এদিন শুধুমাত্র উন্নয়ন নয়, রাজনৈতিক আক্রমণ থেকেও পিছিয়ে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি সব সীমা পার করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম কাটা হচ্ছে। এক একটি বুথে ৫০০ নামের মধ্যে ৪০০ নাম বাদ দেওয়া কি মস্করা? আমরা এটা বরদাস্ত করব না।”
সম্প্রীতির বার্তা: বক্তব্যের শেষে সম্প্রীতি ও ঐক্যের সুর শোনা যায় তৃণমূল সুপ্রমোর গলায়। তিনি বলেন, “রামনবমী হোক বা দুর্গাপুজো, ঈদ বা বড়দিন—আমরা সব উৎসব একসঙ্গে পালন করি। সব ধর্ম, সব বর্ণকে নিয়েই আমাদের পথ চলা। একটা আঙুল দিয়ে যেমন মুঠো হয় না, তেমনই সবাইকে সঙ্গে না নিয়ে সমাজ এগোতে পারে না।” রানিগঞ্জের এই সভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের ঝুলি উজাড় করলেন মমতা, তেমনই আসন্ন ভোটের আগে মানুষের মন জয়েও মরিয়া চেষ্টা চালালেন তিনি।