যুদ্ধবিমান আর ড্রোন লড়বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে! ২০৪০-এর নীল নকশা তৈরি করল ডিআরডিও

আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে ভারতকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি স্টেলথ ড্রোন প্রকল্প ‘ঘাতক’ (Ghatak UCAV) এখন গবেষণার স্তর পেরিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার জন্য প্রস্তুত। রিপোর্ট অনুযায়ী, বায়ুসেনা শুরুতে ৬০ থেকে ৮০টি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করলেও, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ১৫০ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এর ফলে ভারতের আকাশসীমা রক্ষা এবং শত্রুদেশের গভীরে ঢুকে হামলা চালানো আরও সহজ হবে।
কেন এই ড্রোন এত ভয়ঙ্কর? ‘ঘাতক’ হল একটি স্টেলথ আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (UCAV)। এর বিশেষ ‘ফ্লাইং উইং’ নকশা এটিকে রাডারের চোখে ধুলো দিতে সাহায্য করবে। ফলে শত্রুদেশের অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকাতেও এটি অলক্ষ্যে ঢুকে পড়তে পারবে।
-
মানুষ ও যন্ত্রের যুগলবন্দি: এটি একা লড়বে না। ‘ম্যানড-আনম্যানড টিমিং’ (Manned-Unmanned Teaming) প্রযুক্তিতে তেজস এমকে-২ বা এএমসিএ (AMCA)-র মতো যুদ্ধবিমানের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই ড্রোন।
-
পাইলটের নিরাপত্তা: যুদ্ধবিমানের পাইলট নিরাপদ দূরত্বে থেকে এই ঘাতক ড্রোনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। ফলে পাইলটকে সরাসরি ঝুঁকি নিয়ে শত্রুসীমার গভীরে ঢুকতে হবে না।
মেক ইন ইন্ডিয়া ও ভবিষ্যৎ: প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) এই প্রকল্পটি তৈরি করছে। এতে ব্যবহার করা হবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কাবেই’ ইঞ্জিন। উৎপাদনের ক্ষেত্রে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র মতো সংস্থাকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার ভাণ্ডারে ১৫০টি এই ধরণের ড্রোন থাকবে, যা ভারতের সামরিক শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।