১০ নয়, ২৫ কিমি দূর থেকেই ধ্বংস হবে টার্গেট! ভারতীয় বায়ুসেনার ‘বাজপাখি’তে বসছে ইউরোপীয় মারণাস্ত্র

ভারতীয় আকাশসীমায় নজরদারি আরও কড়া করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। গত ২৫ মার্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার দেশের শক্তিশালী মিগ-২৯ ইউপিজি (MiG-29 UPG) যুদ্ধবিমান বহরকে সাজানো হবে অত্যাধুনিক ‘অ্যাডভান্সড শর্ট রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল’ বা ASRAAM-এ। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের পুরনো সোভিয়েত আমলের যুদ্ধবিমানগুলো এখন আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে।
পুরনো অস্ত্রের বিদায়, নয়া প্রযুক্তির আগমন: এতদিন মিগ-২৯ বিমানে রাশিয়ার তৈরি পুরনো ‘R-73’ মিসাইল ব্যবহার করা হতো, যার পাল্লা ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। কিন্তু নতুন এই ইউরোপীয় নকশায় তৈরি ASRAAM মিসাইলের পাল্লা ২৫ কিলোমিটারের বেশি— যা পুরনো মিসাইলের প্রায় দ্বিগুণ। চতুর্থ প্রজন্মের এই মিসাইলটি ইতিমধ্যেই ভারতের তেজস এবং জাগুয়ার যুদ্ধবিমানে সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেন এই মিসাইল এত ভয়ঙ্কর?
-
তাপ-অনুসন্ধানী (Heat-seeking): এটি ইঞ্জিনের তাপ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজে বের করে।
-
ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট: একবার উৎক্ষেপণ করলে পাইলটকে আর নজর রাখতে হয় না, মিসাইল নিজেই টার্গেট ধ্বংস করে।
-
বিশাল গতি: এটি শব্দের চেয়ে তিনগুণ বেশি দ্রুত বা ৩ ম্যাক (Mach 3) গতিতে ছুটতে পারে।
-
ডগফাইট স্পেশালিস্ট: আকাশপথে অত্যন্ত কাছাকাছি লড়াই বা ‘ডগফাইট’-এর সময় এটি নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামো: শুধুমাত্র মিসাইল কেনাই নয়, এই চুক্তির আওতায় বিমানকর্মী ও গ্রাউন্ড ক্রুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং লঞ্চার সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে প্রায় ৫৫টিরও বেশি মিগ-২৯ বিমান রয়েছে। ১৯৮৬ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পর এই বিমানগুলো ভারতের আকাশপথের প্রধান প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। এবার নতুন এই মারণাস্ত্র যুক্ত হওয়ায় শত্রুপক্ষের যে কোনো অনুপ্রবেশ রোখা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।